অক্টোবর ৫, ২০২২
MIMS 24
এই মাত্র খেলাধুলা প্রিয় লেখক ব্রেকিং মু: মাহবুবুর রহমান

শেষ ম্যাচ জিতে হোয়াইটওয়াশ এড়াল পাকিস্তান- সিরিজ জিতলো নিউজিল্যান্ড

মু: মাহবুবুর রহমান– নিউজিল্যান্ড থেকে

শেষ ম্যাচে হারলেই টি-টোয়েন্টি সিরিজে হোয়াইটওয়াশ। এমন একটা সমীকরণে নেপিয়ারে মঙ্গলবার (২২ ডিসেম্বর) নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হয়েছিল পাকিস্তান। আর সেই ম্যাচে ওপেনার মোহম্মদ রিজওয়ানের ৮৯ রানের সুবাদে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডকে ৪ উইকেটে হারায় পাকিস্তান।

তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টির প্রথম দুটি টানা জিতে সিরিজ জয় আগেই নিশ্চিত করে রেখেছিলো কিউইরা। শেষ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের পরাজয় তাই সিরিজ নির্ধারণে কোনো প্রভাব ফেলেনি, কেবল হোয়াইটওয়াশের লজ্জা থেকে বাঁচালো পাকিস্তানকে।

সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচ টস জিতে আগে ব্যাট করে, হেরেছিল পাকিস্তান। তাই হয়তো এবার টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্বান্ত নেয় সফরকারীরা। ব্যাট হাতে শুরুটা ভালোই করেছিলো নিউজিল্যান্ডের দুই ওপেনার মার্টিন গাপটিল ও টিম সেইফার্ট। তবে দলীয় ৪০ থেকে ৫৮ রানে পৌঁছতে ৩ উইকেট হারিয়ে বসে নিউজিল্যান্ড। ১৯ রান করা গাপটিলকে শিকার করেন পাকিস্তানের পেসার হারিস রউফ। আর ফাহিম আশরাফ এসে ম্যাচের পাল্লাটা পাকিস্তানের দিকে ঠেলে দেন। নিজের পরপর দুই ওভারে ফিরিয়ে দেন অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন (১ রান) ও সেইফার্টকে (৩৫ রান)।

এরপর নিউজিল্যান্ড ইনিংসের হাল ধরেন ডেভন কনওয়ে। ইনিংসের শেষ ওভার পর্যন্ত ব্যাট করে নিউজিল্যান্ডের ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৭৩ রানের বড় পুঁজি জোগাড়ের পিছনে মূল অবদান ছিলো তাঁর। শেষ ওভারের তৃতীয় বলে রউফের দ্বিতীয় শিকার হওয়ার আগে ৬ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে দ্বিতীয় হাফ-সেঞ্চুরি তুলে নেন ডেভন কনওয়ে। তিনি ৪৫ বলে ৭টি চার ও ১টি ছক্কায় করেন ৬৩ রান।

জয়ের জন্য ১৭৪ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তান প্রথম থেকেই নিজেদের চালকের আসনে নিয়ে যায়। ওপেনিং জুটিতে ৪০ রানের সূচনা ছিল পাকিস্তানের। ওপেনার হায়দার আলিকে ১১ রানে থামান পেসার কুগিলিজেন। আগের ম্যাচে চার নম্বরে নেমে ৯৯ রান করা মোহাম্মদ হাফিজ আজ তিন নম্বরে নেমে ওপেনার রিজওয়ানের সঙ্গে জুটি বাঁধেন। এ দুজনই মূলত পাকিস্তানের জয়ের ভিত গড়ে দেন। তাঁদের এ জুটিতে রান আসে ৭২, মাত্র ৫১ বল খরচায়।

মোহাম্মদ হাফিজ এদিন ফেরেন ২৯ বলে ৪১ রান করে। হাফিজ আউট হওয়ার পর পাকিস্তানের আর কোনো ব্যাটসম্যান রিজওয়ানকে তেমন যোগ্য সঙ্গ দিতে পারেননি। দলের হোয়াইটওয়াশ এড়াতে একাই লড়াই করে যান তিনি। ১৯তম ওভার করতে এসে ম্যাচ জমিয়ে দেন সাউদি। পরপর দুই বলে ফাহিম (২) ও অধিনায়ক শাদাব খানকে (০) ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সুযোগ সৃষ্টি করেন সাউদি। তবে ওই ওভারের শেষ তিন বলে ৭ রান নিয়ে পাকিস্তানকে জয়ের কাছে নিয়ে যান সাত নম্বরে নামা ইফতেখার আহমেদ। শেষ ওভারে ৪ রান দরকার পড়ে পাকিস্তানের।

ইনিংসের শেষ ওভারে ম্যাচে উত্তেজনা নিয়ে আসেন জেমিসন। শেষ ওভারের দ্বিতীয় বলে পাকিস্তানের জয়ের প্রধান নায়ক রিজওয়ানকে বিদায় করে  দেন তিনি। পাকিস্তানের রান তখন ১৭১। ওভারের পরের বলে কোনো রান নিতে পারেননি ইফতেখার। তখন পাকিস্তানের দরকার ৩ বলে ৩ রান । আর এই সময় জেমিসনের চতুর্থ বলে ছক্কা হাঁকিয়ে দুই বল হাতে রেখেই দলকে জয় এনে দেন ইফতিখার (১৪)।

শেষ ম্যাচে জয় এনে দেয়া ইনিংস (৫৯ বলে ৮৯ রান) খেলে ম্যাচ সেরা হয়েছেন মোহাম্মদ রিজওয়ান। আর টি-টোয়েন্টিতে ক্যারিয়ারসেরা ইনিংস খেলে এর মাধ্যমে টেস্টে পাকিস্তানকে নেতৃত্ব দেয়ার খবরটা ভালোভাবেই উৎযাপন করলেন রিজওয়ান। তিন ম্যাচের টি টোয়েন্টিতে প্লেয়ার অব দ্য সিরিজ হয়েছেন নিউজিল্যান্ডের টিম সেইফার্ট।

ম্যাচ শেষে মোহাম্মদ রিজওয়ান বলেছেন, টি-টোয়েন্টির এই জয় টেস্ট সিরিজ শুরুর আগে তাদের অনুপ্রাণিত করবে। ২৬ ডিসেম্বর মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে শুরু হবে পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার প্রথম টেস্ট।

 

Related posts

সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা

razzak

সৌদি বাদশাহর সঙ্গে বাইডেনের ফোনালাপ

razzak

২৮ জুন থেকে সারাদেশে সব গণপরিবহন বন্ধ থাকবে

Irani Biswash

Leave a Comment

Translate »