আন্তর্জাতিক এই মাত্র প্রিয় লেখক ব্রেকিং মু: মাহবুবুর রহমান যুক্তরাষ্ট্র

ট্রাম্পের ভেটো কংগ্রেসের পর সিনেটেও অগ্রাহ্য, মার্কিন প্রতিরক্ষা বিল পাশ

মু: মাহবুবুর রহমান

প্রতিরক্ষা ব্যয় বরাদ্দ প্রস্তাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভেটো অগ্রাহ্য করেছে দেশটির সিনেট। ট্রাম্পের শাসনামলে প্রথমবার এমন ঘটনা ঘটলো। ট্রাম্পের নিজ দল রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত মার্কিন সিনেট নতুন বছরের প্রথম দিনে এক বিরল অধিবেশন আয়োজন করে ট্রাম্পের ভেটো অগ্রাহ্য করার সিদ্ধান্ত নেয়। এর আগে মার্কিন কংগ্রেসেও ট্রাম্পের ভেটো অগ্রাহ্য করে বিলটি পাশ হয়েছিলো। প্রেক্ষিতে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিল ট্রাম্পের অনুমোদন ছাড়াই পাশ হলো।

২০২১ এর পহেলা জানুয়ারী অনুষ্ঠিত সিনেট অধিবেশনে ট্রাম্পের ভেটো উপেক্ষা করতে দুই তৃতীয়াংশ ভোটের প্রয়োজন ছিল। শেষে বিলটি ৮১-১৩ ভোটের বিশাল ব্যবধানে পাশ হয়। এর আগে গত সোমবার (২৮ ডিসেম্বর ২০২০) মার্কিন কংগ্রেসেও বিলটি ৩২২-৮৭ ভোট পাশ হয়।  এ পর্যন্ত আটবার ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, সিনেটে তার মিত্রদের কারণে সেসব ভেটো টিকেও গিয়েছিল। কিন্তু এই প্রথমবার তার বিরুদ্ধে গিয়ে কোনো পদক্ষেপ নিলো মার্কিন সিনেট ও কংগ্রেস।

নিয়ম হলো, মার্কিন কংগ্রেস ও সিনেটে কোনো বিল পাশ হওয়ার পরে তা প্রেসিডেন্টের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট কোনো কারণে বিলে অনুমোদন না দিলে কিংবা ভেটো প্রয়োগ করলে তা ফিরে আসে কংগ্রেসে। এরপর পার্লামেন্টের দুই কক্ষে (কংগ্রেস ও সিনেট) বিলটি দুই-তৃতীয়াংশ ভোট পেলে প্রেসিডেন্টের অনুমোদন ছাড়াই তা আইন হয়ে যায়। এই বিলটির ক্ষেত্রেও তাই ঘটলো।

৭৪০ বিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা বিলে ভেটো দেয়ার কারণ হিসেবে ট্রাম্প বলেছিলেন, “এই বিলটি আসলে রাশিয়া এবং চীনের জন্য একটি উপহার। এই বিল আইন হলে তা কেবল অন্যায় হবে না, অসাংবিধানিক হবে।“ যদিও সংবিধানের কোনো ব্যাখ্যা ট্রাম্প দেননি। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ শিবিরের বক্তব্য, প্রতিরক্ষা বিলে ভেটো না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্টের পরামর্শদাতারা। তবুও ট্রাম্প ভেটো দিয়েছিলেন কিন্তু তাঁর সে ভেটো আর টিকলো না। মার্কিন পার্লামেন্টের দুই কক্ষে বিলটি দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে পাশ হওয়ায় এটি এখন ট্রাম্পের অনুমোদন ছাড়াই আইনে পরিণত হলো।

৭৪০ বিলিয়ন ডলারের এই বিলে মার্কিন সেনাদের বেতন বৃদ্ধি, সামরিক সরঞ্জামাদির আধুনিকায়ন, আফগানিস্তান ও জার্মানি থেকে সেনাদের ফিরে আসার আগে আরও নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় রসদের বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে বলে জানা গেছে।

আগামী ২০ জানুয়ারি হোয়াইট হাউস ছাড়তে হবে ট্রাম্পকে। নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেবেন জো বাইডেন। তার আগে একাধিক বিতর্কিত পদক্ষেপ নিচ্ছেন ট্রাম্প। থ্যাংকসগিভিং ডে এর সময় থেকেই ট্রাম্প একের পর এক ব্যক্তিকে ক্ষমা করছেন। ক্ষমা করেছেন তাঁর দুই সাবেক পরামর্শদাতাকে যাদের রাশিয়া-কাণ্ডে শাস্তি হয়েছিল। এ ছাড়াও তাঁর জামাইয়ের বাবাকেও ক্ষমা করেছেন ট্রাম্প। ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই ঢালাও ক্ষমা নিয়েও মার্কিন রাজনীতিতে বিতর্ক চলছে

Related posts

শীর্ষস্থান হারালেন সাকিব, উন্নতি মোস্তাফিজের

razzak

মহাকাশে পর্যটন ব্যবসা শুরু করতে চায় রিচার্ড ব্র্যানসন

Irani Biswash

বঙ্গবন্ধুর অর্থনৈতিক মডেল অনুসরণের পরামর্শ নোবেলজয়ী অমর্ত্য সেনের

Mims 24 : Powered by information

Leave a Comment

Translate »