ডিসেম্বর ২, ২০২২
MIMS 24
অভিমত অর্থনীতি রাজনীতি

শেখ হাসিনাকে পরাজিত করা কি এত সহজ?

মাঈদুল চৌধুরী
আজ থেকে বারো বছর আগে যারা বাংলাদেশকে দেখেছেন – আর এখনকার বাংলাদেশকে দেখছেন তারা যদি কেউ বোকার স্বর্গে বাস না করেন তাহলে অনুমান করতে কোনো অসুবিধা হওয়ার কথা নয় যে – কোন দিক থেকে বাংলাদেশ পিছিয়ে? অর্থনীতি, পররাষ্ট্র নীতি, কূটনীতি, অভ্যন্তরীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, শিল্প ,বাণিজ্য , সংস্কৃতি, কর্ম সংস্থান , খাদ্যে স্বয়ং সম্পূর্ণতা ইত্যাদি ইত্যাদি।
আমি বিস্তারিত দিকে না গিয়ে শুধু আন্তর্জাতিক কিছু বিষয়ে আলোকপাত করতে চাই। রাষ্ট্র নায়ক শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে যেই অগ্রগতি হয়েছে তা স্বপ্নেও বাঙ্গালী জাতি চিন্তা করেনি কখনো। বিগত সরকার গুলো অর্থনীতিতে এত বেশি পরনির্ভরশীল ছিল – বিশ্ব ব্যাঙ্ক – এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্ক ছাড়া কোনো বড়ো প্রজেক্টে হাত দেয়ার চিন্তাও করতো না – বছরের পর বছর তাদেরকে তৈল মর্দন করে হাতে পায়ে ধরে – কঠিন কঠিন শর্ত দিয়ে ঋণ নিতে হতো তাও আবার চড়া সুদে। আধা কিলো মিটারের কোনো ব্রিজও নির্মাণ করতে বিদেশিদের দরজায় কতবার ধর্ণা দিতে হতো। সেই বাংলাদেশ এখন শত শত ব্রিজ নির্মাণ করছে এবং পদ্মা সেতুর মতো দীর্ঘ সেতু নির্মাণে শেখ হাসিনার সুকঠিন সিদ্ধান্তে সারা বিশ্ব নেতৃত্বকে অবাক করে দিয়েছে যা আমরা অনেকেই হয়তো অনুধাবন করতে পারছি না।
অর্থনীতিতে বাংলাদেশ এত দূর এগিয়ে আছে যে বিশ্বের সেরা উন্নত দেশগুলো বাংলাদেশের সাথে ব্যবসা ও বিনিয়োগ করতে শেখ হাসিনার সরকারের কাছেই এখন ধর্ণা দিতে হয়।
নতজানু পররাষ্ট্র নীতি আমাদের মধ্যে এখন আর নেই – ছোট্ট একটি উদাহরণ দিলেই সহজে অনুমান যোগ্য -আগে আমেরিকান এম্বাসেডরও বড়ো বড়ো ধমকের সুরে কথা বলতেন দেখে মনে হতো আমরা উনাদের গোলাম -যাই বলেন আমরা শুনতে বাধ্য -আগে ওরা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীন সব বিষয়েই তারা নাক গলাতো আর এখন আমেরিকার রাষ্ট্র পতিও হিসাব করে সম্মানের সহিত অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলোতে মন্তব্য করেন। শেতাঙ্গদের রক্ত চক্ষু এখন আর শেখ হাসিনার নেতৃত্বের সরকারকে নত করতে পারে না – এটা শুধু শেখ হাসিনারই কৃতিত্ব – তাঁর বেক্তিত্ব সম্পন্ন আচরণ, নেতৃত্বের এক অপূর্ব যোগ্যতাই ওদের বুঝিয়ে দিয়েছে বাঙালি জাতি আজ স্বয়ংসম্পূর্ণ জাতি- ওদের সাথে হিসাব করে চলতে হবে এবং বলতে হবে।
অনেকেই ভারত -ভারত বলে গলা শুকিয়ে ফেলছেন – তাদের প্রশ্ন করি – শুধু ভারত কেন – শেখ হাসিনার সরকারের পরাষ্ট্র নীতির গুনে আজ আমরা – চীন, জাপান, রাশিয়া, আমেরিকা সহ সব গুলো উন্নত রাষ্ট্র গুলোর সাথে বন্ধুত্ব স্থাপন করতে পুরোপুরি সক্ষম হয়েছি। সারা পৃথিবীতে প্রতিটি রাষ্ট্রই বন্ধুত্বের হাত বাড়ায় কিছুটা স্বার্থের কারণে – বিপদে আপদে আমরা যেমন নির্ভরশীল আমাদের একজন প্রতিবেশীর প্রতি, বিশ্বের সব কয়টি দেশই পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট এবং সর্বোপরি অর্থনৈতিক উন্নতির জন্য সম্পর্ক সুদৃয় করতে চায় – এতে দোষের কিছু আছে বলে আমরাতো দূরের কথা রাষ্ট্র বিজ্ঞানীরাও মনে করেন না।
ভারতের প্রতি আমাদের বন্ধুত্ব একটু বেশীই চোখে পড়ার কারণ এই দেশটি বাংলাদেশের পার্শবর্তী দেশ এবং আমরা ভারতকে বেশি অকৃত্তিম বন্ধু মনে করি এই জন্য যে – আমাদের মহান স্বাধীনতা অর্জনে তাঁদের সহ যোগিতা আমাদের স্বাধীনতা অর্জনের পথকে অনেকটা সুগম করেছিল- বাঙালি জাতি কখনো অকৃতজ্ঞ জাতি নয়। এটা সুস্পষ্ট যে আমেরিকার সাথেও আমাদের বন্ধুত্বও অকৃতিম – শুধু মাঝে মাঝে আমেরিকার কিছু দালাল বাংলাদেশে বসে আমেরিকাকে ভুল বুঝাতে চেষ্টা করে যেমন বাংলাদেশের গার্মেন্ট শিল্পকে ধ্বংস করতে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছিল। আমেরিকা যখন দেখলো এতে তাদের ক্ষতি বাংলাদেশের চাইতেও বেশি হবে এই ষড়যন্ত্রে পা দিলে তাৎক্ষণিক তারা সেই ষড়যন্ত্র থেকে পিছু হঠেছে। উন্নত বিশ্বে যত কাপড় রপ্তানি হয় চীন এবং বাংলাদেশ থেকে- তারা যদি রপ্তানি বন্ধ করে, তাহলে এই কাপড়গুলো আমেরিকায় যদি তৈরি হয় তার দাম হবে আকাশ চুম্বি এবং আমেরিকান ৫০% লোকের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে যাবে। এটা শুধু আমেরিকার শ্রম মূল্যের জন্য যা বাংলাদেশের শ্রম মূল্যের হাজার গুন্ বেশি – কাঁচা কথায় বলতে গেলে আমেরিকা যদি চীন এবং বাংলাদেশ থেকে প্রস্তুতকৃত কাপড় আমদানি না করে তাহলে একসময় কাপড় পরাটাও হয়তো ভুলে যাবে।পদ্মা সেতুর বিষয়ে ষড়যন্ত্রের কথাতো সবারই জানা। শেষ পর্যন্ত ষড়যন্ত্রের মুখোশ উন্মোচন হয়েছে এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর একক প্রচেষ্টায় পদ্মা সেতু আজ আর স্বপ্ন নয় বাস্তবে রূপান্তরিত হয়েছে।
অনেকেই মনে করেন মোটা অংকের টাকা খরচ করে প্রেস ক্লাবের সামনে দুই একশো লোকের সমাগম করে অরাজগতা সৃষ্টি করে সরকারের পতন ঘটাবেন তাদের আশায় গুড়েবালি। জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আজকের এই বাঙালি জাতি আজ সব দিক থেকে স্বয়ং সম্পূর্ণ – যত ষড়যন্ত্রই হোক বাঙ্গালী এত বোকা নয় -তাঁরা এমনি একজন রাষ্ট্র নায়ককে সবসময়ের জন্য ক্ষমতায় দেখতে চায় যে বাংলাদেশকে বিশ্ব দরবারে আত্ম নির্ভরশীল জাতি হিসাবে মাথা উঁচু করাতে সক্ষম। শেখ হাসিনা তেমনি একজন রাষ্ট্র নায়ক সুতরাং যত ষড়যন্ত্র হোক বাঙালী তা রুখে দাঁড়াবে তাঁদের আত্মসম্মানের জন্য।
জয় বাংলা
জয় বঙ্গবন্ধু
বাংলাদেশ চিরজীবী হোক
* মাঈদুল চৌধুরী ; সাবেক জাতীয় পরিষদ সদস্য – বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক- ফেনী জেলা যুবলীগ,  সাবেক সভাপতি -ফেনী জেলা ছাত্রলীগ

Related posts

ইউরোপ ভ্রমনে নিষেধাজ্ঞা নেই

Irani Biswash

রিজভীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

razzak

নেতারা যতবেশি বিনয়ী হবে আওয়ামী লীগ তত জনপ্রিয় হবে: হুইপ

razzak

Leave a Comment

Translate »