অভিমত আ ব ম ফারুক এই মাত্র কোভিড ১৯ প্রিয় লেখক ব্রেকিং স্বাস্থ্য

টিকাকে কার্যকর করতে যা যা মানতে হবে

সারা দেশে জনগণকে করোনাভাইরাসের টিকা দেয়ার কাজ বেশ ভালোভাবেই চলছে। টিকাকেন্দ্রগুলোতে বেশ একটা উৎসব উৎসব ভাব। পরিচিত কাউকে পেলে লোকজন এখন কুশল বিনিময়ের পর জিজ্ঞেস করে, টিকা নিয়েছেন কি না? কবে নিয়েছেন? কোথায় নিয়েছেন? কোনো সমস্যা হয়েছে? জবাবগুলো আমাদের জানা। শেষে তিনি বলবেন, আমারও কোনো সমস্যা হয়নি। এটাই এখন মানুষের অজান্তে কুশলাদির অংশ হয়ে গেছে। মজার ব্যাপার হলো, গত ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত সমগ্র বাংলাদেশে ৩৩ লক্ষাধিক মানুষকে টিকা দেয়া হয়েছে, কিন্তু একটিও বিরূপ প্রতিক্রিয়ার কথা শোনা যায়নি। না কোনো মিডিয়াতে, না ব্যক্তিগত কুশল বিনিময়কালে।

একটি পত্রিকা অবশ্য যেদিন টিকা দেয়া শুরু হলো তার পরের দিন বলেছিল যে সারা দেশে মোট ৭৬ জনের শরীরে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। আমরা খবরটা পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সেই সব আক্রান্ত বলে কথিত স্থানগুলোতে খবর নিয়ে দেখেছি যে খবরটি সত্য নয়। বাস্তবে যা হয়েছে, তা হলো ৭৬ জনের শরীরে মৃদু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, যার মধ্যে ছিল মৃদু জ্বর, হালকা গায়ে ব্যথা, মাথাব্যথা, গা ম্যাজম্যাজ করা, ইনজেকশনের জায়গায় একটু ফোলা, সেখানে কিছুটা ব্যথা, শরীর নিস্তেজ লেগে ঘুম পাওয়া ইত্যাদি। এগুলো সবই স্বাভাবিক এবং সব টিকার বেলাতেই এগুলো দেখা দিতে পারে। এগুলো মেনে নিয়েই টিকা দিতে হয়। পৃথিবীতে এখন পর্যন্ত এমন কোনো টিকা আবিষ্কৃত হয়নি, যেগুলোতে এসব পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এসব পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এমনিতেই চলে যায়, কোনো ওষুধের প্রয়োজন হয় না। কারো সমস্যা বেশি হলে প্যারাসিটামল-জাতীয় জ্বরনাশক-ব্যথানাশক খাওয়ার পরামর্শ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে দেয়া আছে। ওই মানুষদের সমস্যাটা সে রকমই ছিল। তো পত্রিকাটি টিকার স্বাভাবিক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াকে বিরূপ প্রতিক্রিয়া বলে পরিবেশন করে ভুল করেছে। তারা হয়তো এর পার্থক্য বুঝতে পারেনি। তবে প্রথম দিন টিকা নেয়া প্রায় দুই লাখ মানুষের মধ্যে সারা দেশে মাত্র ৭৬ জনের শরীরে এই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা গেছে, এটিও আমার কাছে অবিশ্বাস্য মনে হয়। বাস্তবে এই স্বাভাবিক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা আরো বেশি হওয়ার কথা।

 আমরা টিকা নেয়ার পর কার শরীরে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা দিল, তাকে দুভাগে ভাগ করি। একটি হলো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা সাইড অ্যাফেক্টস্, অন্যটি বিরূপ প্রতিক্রিয়া বা অ্যাডভার্স রিঅ্যাকশনস্। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলো মোটামুটি নির্দোষ টাইপের। ওষুধ খেলে শরীরে কিছু উপকার বা অ্যাফেক্টস্ পাওয়া যাবে। সেই সঙ্গে কান টানলে মাথা আসবে ধরনের কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও আসবে। আপনার গোলাপগাছে শুধু ফুল থাকবে, কাঁটা থাকবে না, তা তো হয় না। তেমনি এসব পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া খুব ক্ষতিকর কিছু নয়। শুধু একটু সাবধানতা প্রয়োজন, এই যা। আমাদের করোনার টিকাও তেমনি গোলাপের মতোই। করোনার মহামারিতে আমরা বিশ্ববাসী দীর্ঘ অসহনীয় প্রতীক্ষায় ছিলাম, কবে এর কোনো একটা টিকা আসবে। ধনী ও উন্নত দেশগুলোর মধ্যে ওষুধবিষয়ক সেরা রেগুলেটরি সংস্থা ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) পর্যন্ত তার দেশে মহামারির বীভৎস ভয়াল রূপ দেখে বিশ্বের বিজ্ঞানীদের টিকা গবেষণায় উৎসাহ দেয়ার জন্য বলেছিল, টিকার কার্যকারিতা ৫০ শতাংশ হলেও তারা তা ব্যবহারের অনুমোদন দেবে। অর্থাৎ যেহেতু নতুন এই মহামারিকে প্রতিরোধের জন্য তখনো কোনো টিকা ছিল না এবং প্রতিদিনই বিপুলসংখ্যক মানুষ এতে আক্রান্ত ও অসহায়ের মতো মারা যাচ্ছিল, তাই যদি কেউ টিকা আবিষ্কার করতে পারে এবং তা যদি ১০০ জন মানুষের শরীরে প্রয়োগের পর মাত্র ৫০ জনকেও সুস্থ রাখতে পারে, তবু তারা এই টিকাকে জরুরি ব্যবহারের জন্য অনুমোদন দেবে। তখন টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কথা কিছু বলা হয়নি। কারণ টিকা আগে দরকার, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া যা-ই হোক। তা ছাড়া ক্রিয়া থাকলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকবেই। এখন দেখা যাচ্ছে, এ পর্যন্ত যে পাঁচ-ছয়টি টিকা বিভিন্ন দেশে বেরিয়েছে, সেগুলোর কোনোটারই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তেমন গুরুতর কিছু নয় এবং সব টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াই প্রায় একই রকম। তা ছাড়া এই অধিকাংশ টিকারই কার্যকারিতা ৯০ শতাংশের বেশি।

আমাদের দেশে যে টিকাটি ব্যবহৃত হচ্ছে, সেটি যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও সুইডেনের ওষুধ কোম্পানি অ্যাস্ট্রাজেনেকার যৌথভাবে ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া কোলাবরেশনে আবিষ্কৃত। এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কম হওয়ারই কথা। কারণ এটি অন্যান্য প্রচলিত টিকার মতো এডিনোভাইরাস ভেক্টর প্রযুক্তিতে তৈরি। পক্ষান্তরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফাইজার ও জার্মানির বায়োএনটেকের যৌথভাবে আবিষ্কৃত টিকা এম-আরএনএ-ভিত্তিক প্রযুক্তিতে তৈরি। পৃথিবীতে এম-আরএনএ-ভিত্তিক গবেষণা অনেক দিন ধরেই চলছে কিন্তু এই প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে তৈরি টিকা এটাই প্রথম। স্বাভাবিকভাবেই নতুন এই টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এবং বিরূপ প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে আমাদের ঔৎসুক্যও বেশি। এখন পর্যন্ত অভিজ্ঞতাভিত্তিক নির্ভরতার জায়গা থেকে প্রচলিত প্রযুক্তির প্রতিই আমাদের ঝোঁক বেশি। যুক্তরাষ্ট্রেরই আরেকটি প্রতিষ্ঠান মডার্নার আবিষ্কৃত টিকাও একই প্রযুক্তির এবং তাদের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও বিরূপ প্রতিক্রিয়া সম্পর্কেও একই কৌতূহল প্রযোজ্য।

আমাদের দেশে ব্যবহৃত অক্সফোর্ডের টিকার বেলায় আরো একটি সুবিধা হলো এই যে এর ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে ভারতের, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের মানুষের অন্তর্ভুক্তি ছিল। ভৌগোলিক অবস্থান, জলবায়ু, নৃতত্ত্ব, খাদ্যাভ্যাস, জীবনযাপন প্রণালি, সংস্কৃতি ইত্যাদি যেসব বিষয় কোনো নতুন ওষুধ বা টিকার ক্রিয়া, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও বিরূপ প্রতিক্রিয়াতে প্রভাব ফেলতে পারে, সেগুলোর সব কটিতে পশ্চিমবঙ্গের মানুষের সঙ্গে আমাদের পূর্ববঙ্গের মানুষের মিল রয়েছে। অক্সফোর্ডের এই টিকা তাদের ওখানে নিরাপদ ও কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়েছে বিধায় আমরাও সাধারণভাবে একে নিরাপদ ও কার্যকর বলে গ্রহণ করতে পারি। তা ছাড়া এই টিকা বিক্রি করে অক্সফোর্ড ও অ্যাস্ট্রাজেনেকা কোনো মুনাফা করবে না বলে ঘোষণা দেয়ার এই মানবিক দিকটির কারণে আমরা একে অনেক কম দামে, কেবল কস্ট প্রাইসে পাচ্ছি। চীন, রাশিয়াসহ বাকি সব টিকার বিক্রয়মূল্য এর চেয়ে অনেক বেশি। উপরন্তু এই টিকার পরিবহন ও সংরক্ষণ অনেক সহজ। এর জন্য মাইনাস ৮০ বা মাইনাস ২০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডের সুপার কোল্ড তাপমাত্রার প্রয়োজন নেই। তাই দেখা যাচ্ছে, অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার এই টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও বিরূপ প্রতিক্রিয়া কম হওয়ার পাশাপাশি এতে অনেক বাস্তব সুবিধাও পাওয়া যাচ্ছে, যা আমাদের মতো দেশে খুবই দরকার। এই টিকাটি তাই আমাদের দেশের জন্য যথেষ্ট জুতসই।

কিন্তু তার মানে এই নয় যে আমরা পৃথিবীর আর কোনো টিকার জন্য আমাদের দরজা খোলা রাখব না। কিংবা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কিংবা টিকা বিতরণের আন্তর্জাতিক সংস্থা কোভ্যাক্স অন্য কোনো টিকা পাঠালে তা আমরা নেব না বা ব্যবহার করব না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউরোপীয় ইউনিয়নের এমা, যুক্তরাষ্ট্রের এফডিএ, যুক্তরাজ্যের এমএইচআরএ এবং অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের টিজিএ- এই পাঁচটি সংস্থার কোনোটি কর্তৃক অনুমোদিত হলে আমরা বাংলাদেশও সেই টিকা ব্যবহার করতে পারি। অন্যথায় জনগণের স্বাস্থ্যগত নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই এদের কারো অনুমোদন পায়নি- এমন টিকা ব্যবহার করা আমাদের উচিত হবে না। বাংলাদেশ এখন আর আগের মতো গরিব নেই যে, যে যা দেবে তা-ই আমাদের ব্যবহার করতে হবে। বাংলাদেশের এখন সামর্থ্য এবং আত্মসচেতনতা দুই-ই বেড়েছে। আমরা বিশ্বাস করি যে নিশ্চয়ই ভবিষ্যতে অন্য কোনো টিকা কেনা বা আনার সময় আমাদের সরকার উপরিউক্ত সূচকগুলোর নিরিখে উপযুক্ততা বিচার করেই তা কিনবে বা আনবে।

বাংলাদেশে ৩৩ লক্ষাধিক মানুষকে টিকা দেয়ার পরেও একজনের শরীরেও বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়নি, তা একটি খুশির খবর। পশ্চিমবঙ্গে টিকাটির ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চলার সময়ও সেখানে কারো শরীরে কোনো বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। পূর্ববঙ্গে অর্থাৎ বাংলাদেশেও তা হয়নি। নিজস্ব বা সমরূপ জনগোষ্ঠীতে কোনো টিকার ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চলার এটি একটি বিরাট সুবিধা যে সম্ভাব্য বিরূপ প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে অনুমান করা যায়। এখন পর্যন্ত আমাদের দেশে ব্যবহৃত এই টিকা প্রয়োগে একটিও বিরূপ প্রতিক্রিয়ার ঘটনা না ঘটায় সামনের দিনেও হয়তো তা ঘটবে না, এটাই আমাদের সরল ও সৎ প্রত্যাশা।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ঘটলে প্যারাসিটামল বা আইবোপ্রুফেন ধরনের ওষুধ খেলেই চলবে- বিশ্বের বিজ্ঞানীরা তাই বলছেন। কিন্তু এগুলো খেতে হবে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিলে। কিন্তু এখানেও কিছু কথা বলা দরকার। টিকা দেয়ার পরপরই যদি কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়, তা হলে সেগুলো হয় সাধারণত অ্যালার্জি ধরনের। জনস্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা টিকা বাজারে আসার আগেই কোম্পানিগুলোকে তাদের নিজ নিজ টিকার ফর্মুলা জনসমক্ষে প্রকাশের জন্য বলেছেন। এখন পর্যন্ত ফাইজার-বায়োএনটেক, মডার্না এবং অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা তা করেছে। তাই টিকার ফর্মুলায় উল্লিখিত কোনো উপাদানে যদি আপনার অ্যালার্জি থাকে, তা হলে আপনি সেই টিকা নেবেন না। কিন্তু যদি আপনি সেই

ফর্মুলা না দেখে থাকেন (না দেখার সম্ভাবনাই বেশি, কারণ বিদেশের মিডিয়াতে দেখলেও বাংলাদেশের কোনো মিডিয়াতে আমিও তা এখন পর্যন্ত দেখিনি), তা হলে টিকা নেয়ার সময় আপনার জন্য নির্ধারিত কেন্দ্রে গিয়ে টিকা নেয়ার আগমুহূর্তে আপনি সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসককে জানান কী কী খাবারে বা ওষুধে আপনার অ্যালার্জি আছে। আমাদের দেশের প্রতিটি টিকাকেন্দ্রেই এ রকম অভিজ্ঞ চিকিৎসকের উপিস্থিতি সরকার নিশ্চিত করেছে। চিকিৎসক এরপর আপনাকে সিদ্ধান্ত দেবেন আপনার টিকা নেয়া উচিত বা উচিত নয়। তা ছাড়া টিকা নেয়ার পরও যদি কারো কোনো অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া হয়, তা হলে তা টিকা নেয়ার ১৫ মিনিটের মধ্যেই হবে। তাই আপনাকে টিকা নেয়ার পর আধা ঘণ্টা কেন্দ্রেই বসে থাকতে বলা হয়। যদি দৈবাৎ

কারো এ রকম কোনো অ্যালার্জি দেখা দেয়, তখন তাৎক্ষণিক বিনা মূল্যে উপযুক্ত চিকিৎসা দেয়ার ব্যবস্থাও সরকার প্রতিটি কেন্দ্রে করে রেখেছে। তাই অ্যালার্জি নিয়ে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই।

টিকা নেয়ার আগের দিন বা কয়েক দিন আগে থেকে প্যারাসিটামল বা আইবোপ্রুফেন বা এ-জাতীয় ব্যথানাশক বা জ্বরনাশক ওষুধ খাওয়া যাবে না। খেলে টিকার কার্যকারিতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ আমাদের শরীরে যে সাইক্লো-অক্সিজেনেজ-২ (সংক্ষেপে যাকে কক্স-২ বলা হয়) অ্যানজাইমগুলো রয়েছে, সেগুলোকে টিকার আগে খাওয়া এই নন-স্টেরয়েডাল এন্টিইনফ্লেমেটরি ড্রাগগুলো (সংক্ষেপে যাদের বলা হয় এনএসএআইডি) নির্জীব করে ফেলে এবং তাদের কাজ করতে বাধা দেয়। এই কক্স-২ অ্যানজাইমগুলো ইনফ্লেমেশন বা প্রদাহ সৃষ্টির জন্য ভূমিকা রাখলেও আমাদের বিভিন্ন উপকারের মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য উপকার করে, তা হলো এরা মানবশরীরে ইমিউনিটি তৈরি করতে খুবই সাহায্য করে এবং শ্বেত রক্তকণিকার বি-সেলগুলো উৎপাদনে সাহায্য করে। যার কারণে করোনাভাইরাস শরীরে প্রবেশ করলে প্রতিরোধ গড়তে টিকাকে এই অ্যানজাইমগুলো সাহায্য করে। সে কারণেই টিকা নেয়ার আগে এসব এনএসএআইডি খেতে নেই। তবে টিকা নেয়ার পরে প্রয়োজন হলে ব্যথা বা জ্বর কমাতে এগুলো খাওয়া যাবে, তবে সংগত কারণেই যত দেরি করে খাওয়া যায় ততই ভালো। অর্থাৎ ততই টিকা বেশি শক্তি পায়। তাই টিকা নেয়ার পরে সামান্য জ্বর বা ব্যথায় এসব ওষুধ না খেয়ে যতটা সম্ভব সহ্য করাই ভালো।

যাদের মদে আসক্তি আছে, তাদের জানাই যে টিকা নেয়ার আগের কয়েক দিন মদ থেকে দূরে থাকুন। মদের ইথাইল অ্যালকোহল টিকার কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়। মদের কারণে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে যাবে, এটি মেনে নেয়া যায়

না। তবে আপনি যদি মদে মারাত্মক নেশাগ্রস্ত হন, তা হলে অন্তত টিকা নেয়ার আগের দিন মদ খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।

টিকা নেয়ার আগে থেকেই আপনার যদি জ্বর থাকে, তা হলে জ্বর সেরে না যাওয়া পর্যন্ত আপনাকে অপেক্ষা করতে হবে। আপনার শরীরে কোনো প্রদাহজনিত অসুখ থাকলে তা টিকা নেয়ার আগে আপনার চিকিৎসককে জানান এবং টিকা নেয়া যাবে কি না, সে বিষয়ে মতামত নিন।

প্রয়োজনীয় সময় ঘুমানো আপনার সুস্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজন। নতুন টিস্যু ও ইমিউনিটি সৃষ্টির জন্যও আপনার দরকার পর্যাপ্ত ঘুমের। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৬ ঘণ্টা ঘুম অনেকের জন্য যথেষ্ট হলেও অধিকাংশ মানুষেরই ৮ ঘণ্টা ঘুম দরকার। টিকাকে সাহায্য করতে আগের রাতে ভালো করে ঘুমিয়ে নিন।

অর্থাৎ আপনি বিভিন্নভাবে আপনার টিকাকে সহযোগিতা করতে পারেন। সব অপপ্রচারকে পাত্তা না দিয়ে আপনি টিকা নিন। আর যথোপযুক্ত নিয়মে টিকা নিয়ে আপনি আপনার টিকাকে আরো শক্তিশালী করে নিন।

কিন্তু মনে রাখতে হবে, টিকা নেয়ার পরেও আপনার সুরক্ষার জন্যই ঘরে বা অফিসে ঘন ঘন হাত ধোয়া, ঘরের বাইরে গেলে মাস্ক পরা এবং কমপক্ষে ৬ ফুটের সামাজিক দূরত্ব রক্ষার নিয়মসহ করোনার বিরুদ্ধে এযাবৎ অনুসৃত বিবিধ স্বাস্থ্যবিধি অবশ্যই মেনে চলতে হবে।

লেখক : পরিচালক, বায়োমেডিকেল রিসার্চ সেন্টার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও সাবেক ডিন, ফার্মেসি অনুষদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

ই-মেইল: abmfaroque@yahoo.com

 

Related posts

যোগ্য শিক্ষক খুঁজে পায়নি ঢাবির সংস্কৃত বিভাগ

razzak

চরম নাটকীয়তার পরও বাংলাদেশের হার

razzak

ইলেকট্রিক গাড়িতে ইউরোপ আমেরিকা ঘায়েল করছে চীন

razzak

Leave a Comment

Translate »