অভিমত আন্তর্জাতিক প্রবাস কথা ব্রেকিং শিক্ষা স্বাস্থ্য

ইমিগ্র্যান্ট কমিউনিটি ভিত্তিক গবেষণা এবং শিক্ষায় অবদানের জন্য বি.এম.এস.এ. কর্তৃক সন্মামনায় ভূষিত ডক্টর তুরিন চৌধুরী

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়েছে “বাংলাদেশ মেডিকেল সোসাইটি অফ আলবার্টা (বি.এম.এস.এ.)” এর পঞ্চম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী এবং ২০২০-২১ বার্ষিক সাধারণ সভা। কোভিড-১৯ জনিত কারণে এই অনুষ্ঠান ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত হয়। বি.এম.এস.এ-র পঞ্চম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে এবার প্রদান করা হয় “BMSA 5th Anniversary Professional Excellence Award”।  কানাডায় বি.এম.এস.এ. সদস্যদের অর্জনকে স্বীকৃতি প্রদান ও তাদের সাফল্য উদযাপনের নিমিত্তে এই সন্মামনা পুরস্কার প্রদান করা হয়। ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালগারির ফ্যামিলি মেডিসিন এবংকমিউনিটি হেলথ সাইন্স ডিপার্টমেন্ট সমূহের সহযোগী অধ্যাপক ডক্টর তুরিন চৌধুরী তার গবেষণা, শিক্ষা, এবং কমিউনিটি উন্নয়ন কর্মকান্ডের জন্য এবার BMSA 5th Anniversary Professional Excellence Award: Scholarly সন্মামনায় ভূষিত হন।

ডক্টর তুরিন চিকিত্সা, জনস্বাস্থ্য, মহামারীবিদ্যা এবং স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কে গবেষণা করেন। তিনি বাংলাদেশে চিকিত্সক হিসাবে প্রশিক্ষণ ও কাজ করেছেন। এরপর তিনি ২০০৫ সালে সুইডেনের কারোলিনস্কা ইনস্টিটিউট থেকে মাস্টার্স এবং ২০০৮ সালে জাপানের শিগা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি অর্জন করেন। এরপর জাপান সোসাইটি অফ প্রমোশন অফ সায়েন্সেস (জে.এস.পি.এস.) থেকে পোস্টডক্টোরাল ফেলোশিপ শেষ করার পর, তিনি ইন্টার-ডিসিপ্লিনারি ক্রনিক ডিজিজ কোলাবোরেশন (আই.সি.ডি.সি.) এর পোস্টডক্টোরাল ফেলোশিপ নিয়ে ২০১০ সালে ক্যালগারি বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে আসেন। তিনি কানাডিয়ান স্বাস্থ্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (সি.আই.এইচ.আর.) এবং কানাডিয়ান ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশন (সি.ডি.এ.) থেকে ফেলোশিপ পুরষ্কারও অর্জন করেছেন। তিনি বর্তমানে ক্যালগারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যামিলি মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এবং রিসার্চ ডিরেক্টর হিসাবে কর্মরত আছেন। তিনি কমিউনিটি হেলথ সায়েন্সেস বিভাগেরও সহযোগী অধ্যাপক হিসাবে যৌথ অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে সংস্লিষ্ট আছেন।

ডক্টর তুরিনের গবেষণার মূল ফোকাস হচ্ছে ইমিগ্র্যান্ট বা অভিবাসী, রেফিউজি বা শরণার্থী এবং এথনিক মাইনোরিটি বা নৃগোষ্ঠী জনগোষ্ঠীর সুস্বাস্থ সম্পর্কিত বিষয়ে। তিনি কমিউনিটি ভিত্তিক অংশগ্রহণমূলক গবেষণা পদ্ধতি এবং ইন্টিগ্রেটেড নলেজ ট্রান্সলেশনের পদ্ধতির মাধ্যমে তার গবেষণার কর্মসূচির নেতৃত্ব দেন যেখানে অর্থবহ কমিউনিটি এনগেজমেন্ট খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ডক্টর তুরিন একাডেমিক ভাবে খুবই সফল। তাঁর ৪০০ এর বেশি বিভিন্ন ধরণের একাডেমিক পাবলিকেশন রয়েছে। ডক্টর তুরিন তার গবেষণা প্রোগ্রামের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত বিষয়গুলিতে স্নাতক এবং স্নাকোত্তর শিক্ষার্থীদের তত্ত্বাবধান করেন। তিনি কমিউনিটি স্কলার এবং সিটিজেন রিসার্চার-দের সাথেও খুব ঘনিষ্ট ভাবে কাজ করেন। এর মাধ্যমে তিনি কমিউনিটি পর্যায়ে তাঁর গবেষণার উপকার ছড়িয়ে দিতে সচেষ্ট থাকেন, যা তার নলেজ এনগেজমেন্ট স্ট্রাটেজির মূল দর্শন বা ফিলোসফি। গত কয়েক বছর ধরে ডক্টর তুরিন ক্যালগারি শহরের বাংলাদেশী-কানাডিয়ান কমুনিটির সাথে তাদের প্রাইমারি কেয়ার নিয়ে কাজ করছেন।  এই গবেষনা কর্মকান্ড একাধারে যেমন কমিউনিটির বিভন্ন বিষয় তুলে ধরছে, অন্যধারে তেমনি সমাধান খুঁজে বের করার ক্ষেত্রে কমিউনিটি এমপাওয়ারমেন্ট বা ক্ষমতায়নের বিষয়টিও সামনে নিয়ে আসছে।

প্রতিবেদন: ডা: সায়মা মাওলা,ক্যালগেরী, কানাডা

Related posts

আফসানা মিমি হাসপাতলে

শাহাদাৎ আশরাফ

সেপ্টেম্বরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার ব্যাপারে সরকার চিন্তা-ভাবনা করছে: শিক্ষামন্ত্রী

razzak

সামরিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন বাইডেন

razzak

Leave a Comment

Translate »