অভিমত আন্তর্জাতিক নারী

হাতবিহীন গাড়িচালক জিলোমোল

ডেস্ক রিপোর্ট: মানুষ পরিপূর্ন হয়ে জন্ম নিয়েও হাতাশা নিমজ্জিত থাকে। কখনো কখনো মানুষ শারিরিক প্রতিবন্ধকতা নিয়ে জন্মায়। আমাদের প্রচলিত ধারণা শারীরিক প্রতিবন্ধকতা একটা অভিশাপ। পঙ্গু শিশুর কোনও ভবিষ্যত নেই, এ ধরনের শিশুরা পরিবারের বোঝা। অর্থনৈতিক ভাবে তারা অক্ষম তাই তাদের লেখাপড়া শেখার কোনও দরকার নেই। আর বেশির ভাগ ক্ষেত্রে শারীরিক ভাবে অক্ষম ব্যক্তিরা কোনও দিন সেরেও ওঠে না। এদের শরীরের একটা বা দুইটা অংশ কম থাকলেও মনোবল থাকে অটুট। এই মনোবল দিয়ে অনেক কঠিন বাধা অতিক্রম করে। তেমনই একজন কেরালার ২৮ বছর বয়সী জিলোমল ।  জিলোমোল যখন জন্মগ্রহণ করেছিলেন, তখন তাঁর দুটি হাত ছিল না।।

কেরলের কারিমানুর গ্রামের বাসিন্দা জিলোমল শৈশব থেকেই গাড়ি চালানোর শখ ছিল। কিন্তু উভয় হাত না থাকার কারনে একটু মুষড়ে পড়েছিলেন। পরে যখন জানতে পারল যে, বিক্রম অগ্নিহোত্রি নামে এক ব্যক্তির হাত না থাকা স্বত্ত্বেও ড্রাইভিং লাইসেন্স পেয়েছে, তখন তার ইচ্ছা আরও দৃঢ় হয়। জিলোমোলের মেরিয়িট টমাস  অনেক শক্তিশালী ছিলো।  দৃঢ় ইচ্ছাশক্তির জোরে অসম্ভবকে সম্ভব করেছিলো। জিলোমল অবশেষে একটি ড্রাইভিং লাইসেন্স পেয়েছিল।

জিলোমল 2018 সালে একটি কাস্টম তৈরি মারুতি সেলারিও কিনেছিলো। একই বছর ড্রাইভিং লাইসেন্সও পেয়েছিলো। আসলে জিলোমল প্রতিবন্ধীদের দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে। যারা প্রতিবন্ধী হওয়ার পরে বেঁচে থাকার আশা ছেড়ে দেয়। জিলোমল অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে কেবল গাড়ির স্টিয়ারিং ধরে রাখে না, ব্রেকগুলিও প্রয়োগ করে।

হাত না থাকা সত্ত্বেও গাড়ি চালানো এই মেয়েটি ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার জন্য এশিয়ার প্রথম হ্যান্ডলেস ড্রাইভার হয়ে উঠেছে।

স্যোসাল মিডিয়ায় জিলোমলের একটি ভিডিওটি ভাইরাল হয়েছিল। বিখ্যাত শিল্পপতি এবং মাহিন্দ্রা গ্রুপের চেয়ারম্যান আনন্দ মাহিন্দ্রাও ভিডিওটি দেখে অভিভূত হয়েছিলেন। তিনি সাহসের জন্য জিলোমলের প্রশংসাও করেছিলেন। জিলোমল পড়াশুনায় খুব ভাল। তাই সাধারণ লেখাপড়ার প্রতি তার আগ্রহ কম। সে গ্রাফিক ডিজাইনিংয়ের তাঁর কেরিয়ার বেছে নিয়েছে। এ ছাড়াও জিলোমলের চিত্রকলা খুব পছন্দ।

তিনি তার পা এবং হাঁটু উভয়ের সাহায্যে গাড়ি চালান। জিলোমল কোনওভাবে গাড়িটি কিনেছিল তবে এর জন্য তাকে পরিবারের সদস্যদের অনেক কিছু বোঝাতে হয়েছিল। জিলোমলের মতে, তার বাবা-মা তাঁর সুরক্ষার জন্য উদ্বিগ্ন ছিলেন, যার কারণে তাঁরা মানতে দ্বিধা বোধ করেছিলেন।

কিন্তু বাস্তবে শারীরিক প্রতিবন্ধকতার সঙ্গে অতীতের কাজের কোনও সম্পর্ক নেই। এটা এক ধরনের বিকৃতি যা মায়ের গর্ভে শিশু থাকার সময় অযত্নের কারণে হতে পারে, বা বংশগত কারণেও এই বিকলাঙ্গতা আসতে পারে। প্রয়োজনীয় সময়ে ডাক্তারি সাহায্যের অপ্রতুলতা, ওষুধপত্রের অভাব, দুর্ঘটনা বা আঘাতজনিত কারণেও মায়ের গর্ভে থাকাকালীন শিশু বিকলাঙ্গ হয়।

শারীরিক ও মানসিক ভাবে পঙ্গু ব্যক্তি সব সময়ের জন্য দয়া ও করুণার পাত্র হয়। আমরা ভুলে যাই যে পঙ্গু বিকলাঙ্গ মানুষের করুণার চাইতে বেশি দরকার অধিকার ও সহমর্মিতার।

প্রতিবন্ধকতাকে আমাদের সমাজে কলঙ্কস্বরূপ দেখা হয়। একটি পরিবারে মানসিক ভাবে অসুস্থ কেউ থাকলে সেই পরিবারকে পরিত্যাগ করা হয়, এবং তাকে সমাজে হেয় জ্ঞান করা হয় । শিশুর উন্নতির জন্য সব রকম অবস্থাতেই প্রত্যেকটি শিশুর শিক্ষার প্রয়োজন। সেই শিশু যদি প্রতিবন্ধীও হয় তবুও এটা সত্য। কারণ এর দ্বারাই শিশুর সার্বিক বিকাশ সম্ভব।

প্রতিবন্ধী শিশুর বিশেষ যত্নের ও দেখাশোনার প্রয়োজন। যদি তারা সঠিক সুযোগ পায় তবে তারাও জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় কাজ করতে পারে। প্রতিবন্ধকতা তখনই জীবনে দুঃখ বয়ে আনে যদি প্রতিবন্ধী শিশুর প্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণ করতে আমরা ব্যর্থ হই।

Related posts

পাত্তাই পেল না ভারত, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনালে ইংল্যান্ড

Mims 24 : Powered by information

মোদির জন্মদিন আজ, ভারতজুড়ে উৎসবের আমেজ

razzak

আলাবামায় সামরিক প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত

Mims 24 : Powered by information

Leave a Comment

Translate »