আন্তর্জাতিক কোভিড ১৯ জনদুর্ভোগ জাতীয় জীবনধারা বাংলাদেশ ব্রেকিং স্বাস্থ্য

দেশে ভারতীয় করোনার B.1.617 ভ্যারিয়েন্টের উপস্থিতি

 নিজস্ব সংবাদদাতা:   ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট হিসেবে পরিচিত B.1.617 ভ্যারিয়েন্টের উপস্থিতি পাওয়া গেছে বাংলাদেশে। ডাবল মিউট্যান্ট বলে পরিচিত এই ভ্যারিয়েন্ট দেশে পাওয়া যায় ২৮ ও ২৯ এপ্রিলের সংগ্রহ করা নমুনায়। প্রায় একই রকমের ভ্যারিয়েন্ট হলেও মিউটেশনে কিছুটা ভিন্নতা থাকা ভ্যারিয়েন্টও পাওয়া গেছে ৬ তারিখ সংগ্রহ করা তিনটি নমুনার মাঝে দু’টি B1.617.2 ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া গেছে।। যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) জিনোম সেন্টারে করোনাভাইরাসের ভারতীয় ধরণ শনাক্ত করা হয়েছে বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

তবে এই ভ্যারিয়েন্ট সম্পর্কিত কোনো তথ্য জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের বৈশ্বিক অনলাইন ডাটাবেজ জিআইএসএইড-এ আপলোড করা হয়নি।

যবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল থেকে আমরা ভারতফেরত রোগীদের কিছু নমুনা সংগ্রহ করি যা সিকোয়েন্সিং করা হয় যবিপ্রবির ল্যাবে। ৬ তারিখ সংগ্রহ করা ৩টি নমুনার মাঝে দুইটিতেই ডাবল ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া গেছে আমাদের ল্যাবে। এই ভ্যারিয়েন্টটি হলো B1.617.2। এটা ভারতের একটা ভ্যারিয়েন্ট যা সেখানে সংক্রমণ ছড়াচ্ছে। গুজরাটে প্রায় ২০ শতাংশ এই ভ্যারিয়েন্টের সার্কুলেশন আছে। এটা যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বর্তমানে আছে।’

তিনি বলেন, ‘ডাবল মিউট্যান্ট বলতে বোঝায় স্পাইক প্রোটিনে ৪৫২ নম্বর স্থানে অ্যামাইনো অ্যাসিডটা পরিবর্তন হয়ে যাওয়া। আরেকটা হলো ৪৭৮ এর স্থানে অ্যামাইনো অ্যাসিড পরিবর্তন হয়ে যাওয়া। এই পরিবর্তনের ফলে ভাইরাসটা খুবই আগ্রাসী হয়ে গেছে। এ কারণে এটি খুব দ্রুত ছড়াতে পারে।’

‘এই ভ্যারিয়েন্টের ক্ষতির দিক হলো ভাইরাস ছড়ানোর পাশাপাশি ভ্যাকসিনের ওপরেও প্রভাব ফেলে। একজন মানুষ ভ্যাকসিনেটেড হলেও সে কিন্তু সংক্রমিত হতে পারে। এখন বাংলাদেশে দক্ষিণ আফ্রিকার যে ভ্যারিয়েন্ট আছে তাও কিন্তু অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিনে পূর্ণ সুরক্ষা পাওয়া যায় না’, বলেন তিনি।

অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, “ভারতীয় এ ধরণটি ৫৯ শতাংশ যুক্তরাজ্যের করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে দেখা গেছে। ভারতীয় এ ধরণটি ২০ শতাংশের বেশি সংক্রমণের সক্ষমতা রাখে। ভ্যাকসিন পরবর্তী ‘সেরাম এবং মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি’ এ ধরণকে কম শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করতে পারে। এই ভ্যারিয়েন্ট যদি ছড়াতে থাকে তবে আমাদের দেশের অবস্থা কিন্তু ভয়াবহ হবে। আমাদের দেশে এখন শপিংমল ও যাতায়াতে যেভাবে স্বাস্থ্যবিধি ভাঙা হচ্ছে তাতে আমাদের অবস্থাও কিন্তু খারাপ হতে পারে।’

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) জিনোম সেন্টারে ৭ মে রাতে প্রতিষ্ঠানটির সহযোগী পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. ইকবাল কবীর জাহিদের নেতৃত্বে একদল গবেষক এই সিকোয়েন্সিং করেন। গবেষণাটি সার্বিক তত্ত্বাবধান করেন যবিপ্রবির উপাচার্য ও জিনোম সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন।

ইতোমধ্যে ভারতীয় ধরণ শনাক্তের বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, আইইডিসিআর ও যশোরের স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে বলে জানান যবিপ্রবির উপাচার্য।

তিনি বলেন, ‘ভারত থেকে আগত সবাইকে পরপর দুইবার করোনা নেগেটিভ না হওয়া পর্যন্ত আইসোলেশনে রেখে পরীক্ষা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে ভারতীয় ধরণে আক্রান্ত রোগীরা যে সকল ব্যক্তির সংস্পর্শে এসেছে, তাদের অতিদ্রুত পরীক্ষা করা প্রয়োজন। এ ছাড়া ভারতীয় ধরণ শনাক্ত হওয়ায় সীমানা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ, বাণিজ্যিক বা অন্য কোনো কারণে চালক ও সহকারীদের কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন ও পরীক্ষা করার প্রয়োজন।’

Related posts

রুশ-ইউক্রেন তৃতীয় বৈঠকে কী সিদ্ধান্ত এল?

razzak

সিঙ্গাপুরের হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে নায়ক ফারুক

Irani Biswash

করোনায় আক্রান্ত প্রায় ২৩ কোটি, মৃত ৪৭ লাখ ১৩ হাজার

razzak

Leave a Comment

Translate »