ডিসেম্বর ১, ২০২২
MIMS 24
অপরাধ আইন ও বিচার কোভিড ১৯ জনদুর্ভোগ জাতীয় জীবনধারা টেকনোলজি বাংলাদেশ ব্রেকিং শিক্ষা স্বাস্থ্য

স্কুল বন্ধ থাকায় বাড়ছে ই-সিগারেটে আসক্ত

নিজস্ব সংবাদদাতা: চীনের  উহানে  ২০১৯ সালের শেষ সময়ে করোনাভাইরাস ধরা পড়ে। পরের বছর বৈশ্বয়িক মহামারির কারণে ২০২০ সাল থেকে বাংলাদেশে লকডাউন শুরুতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয় এবং এখনো চলমান। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের মানসিকতার অনেক পরিবর্তন ঘটেছে। এমতাবস্তায় পড়াশুনা না করে টিভি দেখে, মোবাইলে গেইম খেলে বা পাড়ার দোকানে কেরাম খেলায় সময় পার করেছে তারা। অনেকেই আবার আসক্ত হচ্ছে ক্ষতিকর ইলেকট্রনিক সিগারেটে (ই-সিগারেট)। যা নিয়ে উদ্বিগ্ন অভিভাবকসহ সংশ্লিষ্টরা।

শুক্রবার এ বিষয়ে একাধিক অভিভাবকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, করনার কারণে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় তাদের সন্তানেরা বাড়িতে আর লেখাপড়া করতে চায় না। ঘরে থাকলে টিভি দেখে ও মোবাইলে গেইম খেলে, নয়তো পাড়ার দোকানে কেরাম খেলতে বেরিয়ে পড়ে। এর মধ্যে সবচেয়ে বিপদজনক হচ্ছে ই-সিগারেট। অনেকেই ই-সিগারেট আসক্ত হচ্ছে। হাত খরচের টাকা তারা এই সিগারেটের পিছনে ব্যয় করছে। ফলে সন্তানদের নিয়ে খুব দুশ্চিন্তায় দিন পার করছেন তারা।

রিচার্জেবল ব্যাটারি চালিত বিভিন্ন ফ্লেভারের ই-সিগারেটে লিকুইড মেশানো থাকে। একাধিক ব্যবসায়ী জানান, এই ই-সিগারেটের দাম ১৫০ টাকা থেকে শুরু করে হাজার টাকা পর্যন্ত। সিগারেটের মেশিনে যে ফ্লেভারের লিকুইড ঢুকানো হবে, ধোঁয়ায় সেই ঘ্রাণ পাওয়া যায়।

নিয়মিত ই-সিগারেট ব্যবহার করেন রিপন মাহমুদ। তিনি বলেন, সাধারণত ই-সিগারেটের কম দামের মেশিনটা ১৫০ টাকায় পাওয়া যায়। এটার সঙ্গে লিকুড পাওয়ায় সর্বনিম্ন ৩০ টাকায়। মেশিনে লিকুইড ঢুকানোর পর সিগারেটের মাথায় মুখে লাগিয়ে টান দিলে ধোঁয়া বের হয়। এই সিগারেট শখের বশে অনেকে ব্যবহার করে থাকেন। তবে ইলেকট্রনিক যন্ত্র হওয়ার এর অনেক ক্ষতির দিকও আছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শহরের একজন ব্যবসায়ী জানান, আমার দোকান থেকে বড়দের কথা বলে কম বয়সের ছেলেরা প্রায়ই বেশ দামি ই-সিগারেট কিনে নেয়। যে সময় ই-সিগারেট নেয়, তখন দেখা যায় পাঁচ থেকে ছয়জনের একটি দল আসে। এরা সবাই শিক্ষার্থী এবং ভাল পরিবারের সন্তান বলেই মনে হয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) গবেষণা বলছে, বাংলাদেশের প্রায় ১২ শতাংশ অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশু-কিশোর ধূমপান করে থাকে, যাদের অধিকাংশের বয়স ১৩ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে। বৈশ্বিক সংস্থাটি জানায়, ধূমপানে আসক্ত এই শিশুদের ৭৫ ভাগ ছেলে আর ২৫ ভাগ মেয়ে। বিজ্ঞাপনের প্রভাব এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাছে সিগারেট বিক্রি হওয়ার কারণেই দেশে অপ্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে ধূমপানে প্রভাব বিস্তার করছে।

 

একজন  অভিভাবক বলেন, দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ থাকায় আমাদের সন্তানরা শিক্ষা জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। অনেক শিক্ষার্থী পারিবারিক কাজে এবং পিতার ব্যবসার কাজে যুক্ত হয়েছে। আবার অনেকেই অলস সময় কাটাতে গিয়ে বিপথে যাচ্ছে।

আরেক অভিভাবক বলেন, স্কুল বন্ধ থাকায় শিশুদের পড়াশুনা তেমন হচ্ছে না। ঘোরাঘুরি খেলাধুলায় সময় পার করছে।

উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ফারুক আহমদ বলেন, শিক্ষার্থীরা ইন্টারনেটে আসক্ত হয়ে পড়েছে। মোবাইল বা কম্পিউটারে গেম খেলায় মনোযোগী হয়েছে। স্কুল খোলার খবর নিতে এসে অনেক অভিভাবক এমন কথা জানিয়েছেন।

জেলা সদর হাসপাতালের শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সৈকত দাস বলেন, সাধারণ সিগারেটের চেয়ে ই-সিগারেট বেশি ক্ষতিকর। কারণ সাধারণ সিগারেটের নিকোটিন থাকে, আর ই-সিগারেটে থাকে লিকুইড। এই লিকুইড সরাসরি শরীরের ভেতরে চলে যায়। ফলে এটার ক্ষতির দিকও অনেক বেশি।

Related posts

জাতীয় শোক দিবসে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

razzak

রাজধানীতে প্রায় দেড় লাখ স্কুলশিক্ষার্থী পেল করোনার টিকা

razzak

রাশিয়ার ট্যাংক রুখতে লোহার ব্যারিকেড তৈরি করল ইউক্রেন

razzak

Leave a Comment

Translate »