আইন ও বিচার আন্তর্জাতিক এই মাত্র প্রবাস কথা প্রিয় লেখক মু: মাহবুবুর রহমান যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম ফেডারেল বিচারক জাহিদ কুরাইশি

মু: মাহবুবুর রহমান

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে ফেডারেল বেঞ্চে প্রথম মুসলিম বিচারক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন জাহিদ কুরাইশি। আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম জানায়, দেশটির ২৪৪ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো মুসলিম ফেডারেল বিচারক হলেন।

ফেডারেল বিচারক হিসেবে জাহিদ কুরাইশিকে দেয়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের মনোনয়ন বৃহস্পতিবার (১০ জুন) অনুমোদন দেয় সিনেট। ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত সিনেটে জাহিদের মনোনয়ন ৮১-১৬ ভোটে অনুমোদন পায়।

ভোটাভুটির শুরুতেই নিউইয়র্ক সিনেটর ও সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা চাক শুমার সিনেটরদের উদ্দেশে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে ইসলাম তৃতীয় বৃহত্তম ধর্ম হলেও এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে কোনো মুসলিম ফেডারেল বিচারক ছিলেন না। যুক্তরাষ্ট্রে জনতাত্ত্বিক বৈচিত্র্যের পাশাপাশি পেশার ক্ষেত্রেও বৈচিত্র্য বাড়াতে হবে।’এ বিষয়ে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনও তাঁর সঙ্গে একমত হবেন বলে মন্তব্য করেন তিনি ।

পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত জাহিদ কুরাইশি জন্ম গ্রহণ করেন নিউইয়র্ক সিটিতে। তবে বড় হয়েছেন নিউ জার্সিতে। ২০০১ সালের দিকে একটি ল ফার্মে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করলেও ২০০১ সালে সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার পর সেনাবাহিনীতে নিয়োগ পান তিনি। সরকারি আইনজীবী হিসেবে তার পথচলা শুরু তাই ২০০১ সাল থেকে।

৪৬ বছর বয়সী জাহিদ কুরাইশি এক পাকিস্তানি অভিবাসীর সন্তান। তাঁর বাবা নিসার ১৯৭০ সালে পাকিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্র যান। দেশটিতে চিকিৎসা সেবার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। তবে ছেলের এই অর্জন অল্প কিছুদিনের জন্য দেখে যেতে পারলেন না জাহিদের বাবা। করোনায় আক্রান্ত হয়ে গত বছর এপ্রিলে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

জাহিদ কুরাইশি ২০১৯ সালে নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ পান। আর এখন হলেন ফেডারেল বেঞ্চের বিচারক। নিউ জার্সির বিখ্যাত রাটগার্টস ইউনিভার্সিটিতে আইনে পড়া জাহিদ যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী অ্যাটর্নি হিসেবেও কাজ করেছেন।

জাহিদ কুরাইশি কাজ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের সহকারী প্রধান কাউন্সেলর হিসেবেও। মার্কিন সেনাবাহিনীর কৌঁসুলি বা আইনজীবী হিসেবে কাজ করার সময় তিনি ২০০৪ ও ২০০৬ সালে মার্কিন ইরাকে কাজ করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার ব্যবস্থায় বৈচিত্র্য আনতে এ বছর মার্চে জাহিদ কুরাইশের সঙ্গে আরও ১০ জন বিচারককে মনোনীত করা হয়েছিল, যাদের মধ্যে আছেন নারী, কৃষ্ণাঙ্গ এবং এশীয়-আমেরিকান নাগরিক। ঐ ১১ জনের মধ্যে মাত্র দুইজন পুরুষ এবং ১১ জনের মধ্যে কেউই সাদা চামড়ার নন। অর্থাৎ মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের অধীনে বদলাতে শুরু করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

Related posts

বিশ্বকাপে ভালো করবে বাংলাদেশ : মুশফিক

razzak

কানাডায় ৫০ ভাগ বেড়েছে বাড়ির দাম, কিনতে পারবেন না বিদেশিরা

razzak

যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুকধারীর গুলিতে ৫ পুলিশ সদস্য আহত

razzak

Leave a Comment

Translate »