ডিসেম্বর ২, ২০২২
MIMS 24
অপরাধ আইন ও বিচার আন্তর্জাতিক জনদুর্ভোগ জাতীয় জীবনধারা বাংলাদেশ ব্রেকিং রাজনীতি সংগঠন সংবাদ সেবামূলক কাজ

ইউএনএইচসিআর এর বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা বিষয়ক গুরুতর অভিযোগ

আন্তর্জাতিক সংবাদ:  জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) ভুল পদ্ধতিতে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের কাছ থেকে ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে তা বাংলাদেশের কাছে প্রকাশ করেছে। পরবর্তীতে এসব তথ্য বাংলাদেশ সম্ভাব্য প্রত্যাবাসনের সত্যতা যাচাই করতে মিয়ানমারের কাছে প্রকাশ করেছে বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)।

সংস্থাটি তাদের নীতিমালা অনুসারে পূর্ণ তথ্য মূল্যায়নের কার্যক্রম পরিচালনা করেনি এবং কিছু ক্ষেত্রে মিয়ানমারের সঙ্গে তাদের তথ্য সরবরাহ করার বিষয়ে সেই দেশ থেকে পালিয়ে আসা শরণার্থীদের সম্মতি পেতে ব্যর্থ হয়েছে।

২০১৮ সাল থেকে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর কয়েক লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্যাম্পে নিবন্ধন করেছে এবং বাংলাদেশ সরকার তাদের পরিচয়পত্র প্রদান করেছে যা প্রয়োজনীয় সহায়তা ও পরিষেবার জন্য আবশ্যক ছিল।

পরবর্তীতে বাংলাদেশ সম্ভাব্য প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমার সরকারের কাছে শরণার্থী সম্পর্কিত তথ্য জমা দেওয়ার জন্য অ্যানালগ বা অনুরূপ স্থির ছবি, বৃদ্ধা আঙ্গুলের ছাপ এবং অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করেছে।

বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার তথ্য সংগ্রহে যেসব মাধ্যম কাজ করেছে তারা সংস্থাটির নিজস্ব নীতিমালার পরিপন্থী ছিল এবং শরণার্থীদের আরও ঝুঁকির মুখে ফেলেছে বলে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ-এর সংকট ও সংঘাত বিষয়ক পরিচালক লামা ফাকিহ উল্লেখ করেছেন।

অংশগ্রহণকারীদের কাছ থেকে নিয়ম অনুযায়ী স্বাধীনভাবে এবং অবহিতমূলক সম্মতি পেলেই কেবল ইউএনএইচসিআর সংগৃহীত তথ্যের অনুমোদন দিতে পারে এবং সম্পৃক্ত দেশগুলোর কাছে প্রকাশ করার অধিকার রাখে। কিন্তু এক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রম ঘটেছে।

২০১৬ সাল থেকে ৮ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে মিয়ানমার থেকে বের করে দেয়া হয়েছে অথবা মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং গণহত্যার মত ঘটনা ঘটেছে। ফলে বাঁচার জন্য তারা সীমানা পেরিয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আশ্রয় নিয়েছে।

অপরদিকে মিয়ানমারে থেকে যাওয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বর্ণবাদ, নির্যাতন ও মানবতাবিরোধী অপরাধ এখনও চালিয়ে যাচ্ছে দেশটির সরকার। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২১ সালের মার্চ পর্যন্ত হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বাংলাদেশের কক্সবাজারে ইউএনএইচসিআর-এর সাথে রোহিঙ্গাদের নিবন্ধণের অভিজ্ঞতার বিষয়ে ২৪ জন রোহিঙ্গা শরণার্থীর সাক্ষাৎকার নিয়েছে এবং ২০ জন মানবিক সহায়তা কর্মী, বিশ্লেষক, স্থানীয় অধিকার কর্মী, সাংবাদিক এবং যারা রোহিঙ্গা নিবন্ধনে পর্যবেক্ষণ করেছেন বা অংশ নিয়েছেন তাদের সাথে কথা বলেছেন।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ গত ফেব্রুয়ারি এবং এপ্রিলে ইউএনএইচসিআরের কাছে বিস্তারিত প্রশ্ন এবং এর গবেষণার ফলাফল প্রেরণ করে এবং গত ১০ মে ইউএনএইচসিআর এর কাছ থেকে এর প্রতিক্রিয়া পায়। ইউএনএইচসিআর কোনও রকম ভুল বা নীতি লঙ্ঘনের বিষয়টি অস্বীকার করে জানিয়েছে যে, এটি তথ্য সংগ্রহের কার্যক্রমের সকল উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করেছে এবং এ বিষয়ে সম্মতির ভিত্তিতেই কাজ করেছে।

সংস্থাটি বলছে যে, তথ্য সংগ্রহের প্রচেষ্টার লক্ষ্য ছিল শরণার্থীদের জন্য দীর্ঘকালীন সমাধান খুঁজে বের করা এবং কোনও রোহিঙ্গা যেন ঝুঁকির মধ্যে না পড়ে। ২০১৮ সালে বাংলাদেশ সরকার ইউএনএইচসিআর-এর সাথে একটি যৌথ নিবন্ধণ কার্যক্রম শুরু করে পূর্ববর্তী নিবন্ধনের সঙ্গে পরিপূরক করতে চেয়েছিল।

Related posts

এইচএসসি পরীক্ষা হবে ২ ঘণ্টা, কমলো নম্বর

razzak

ভারতীয় স্পিনার পীযূষ চাওলের বাবা মারা গেছেন

Irani Biswash

নাইজারে স্কুলে আগুন, ২৬ শিশুর মৃত্যু

razzak

Leave a Comment

Translate »