সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২২
MIMS 24
আন্তর্জাতিক জাতীয় জীবনধারা নারী বাংলাদেশ বিনোদন ব্রেকিং যুক্তরাষ্ট্র স্বাস্থ্য

মাস্টার শেফের কিশোয়ার আমার আদরের নুপুর

আইভি রহমান, ক্যানবেরা, অস্ট্রেলিয়া
সবাই যখন কিশোয়ারকে নিয়ে লিখছে, অভিনন্দন জানাচ্ছে আমিও তখন জয়ের গান গাইছি। কিশোয়ার আমার বোনের মেয়ে। তার পারিবারিক নাম নুপুর। ছোটবেলা থেকে তাকে আমি নূপুর নামেই ডাকতে ভালবাসি।  তার জন্য চোখের তারায় প্রত্যাশার  আলো জ্বেলে হাসছি আর বলছি, হতেই হবে। বিজয় হবেই।
অকুন্ঠ সাহস,  বলিষ্ঠ মেধা আর পরিশ্রম যার ভিত্তি , দেশের সংস্কৃতি যার শক্তি তার ভয়ের কিচ্ছু নেই, একেবারেই নেই। সকলের কিশোয়ার আমার নুপুর, বড় আদরের নুপুর। তার গুনের কথা বলতে গেলে বলতে হবে তার মা আমার লায়লা আপার কথা আর দুলাভাই কামরুল চৌধুরীর কথা। ক্যানবেরায় আসার পর প্রথমবার দুলাভাই আমাকে আর মূনিরকে উনার কার কার গুন নামক জায়গার ফার্ম হাউসে নিয়ে গেলেন। সেখানে যাবার পর বললেন তোমরা দুজনে আমার পুরো ফার্ম হা্উজটা ঘুরে দেখো , আমি দেখি খাবার কি আছে। দুলাভাই চলে গেল আমি আর মুনির ঘুরে ঘুরে ফার্ম হাউসের কিছুটা দেখার পর ঘরের ভেতরে এলাম। দূর থেকে নাকে ভেসে আসতে লাগলো খিচুড়ি আর ডিম অমলেটের দারুন দাউ দাউ খিদে ধরানো আগুন তেজের গন্ধ।
উফ , সেদিনের কামরুল দুলাভায়ের সেই খিচুড়ির স্বাদ আমার আজীবন ভুলে যাবার নয়। অসাধারণ স্বাদের খিচুড়ি এত ত্বরিত গতিতে কি করে রান্না করেছে দুলাভাই, আজও বুঝতে পারলাম না। খেতে বসার পর আরো অবাক হয়েছি,  আমার পাশে রাখা ঘিয়ের বোয়ম দেখে , ব্যাস আমাকে আর পায় কে। আমার সব চেয়ে প্রিয় খাবার ,খিচুড়ি, ডিম আর ঘি।  সেদিন ম্যেনুতে আরো কিছু ছিল কিন্তু সেগুলোর একটারও কথা মনে নেই। শুধু মনে আছে সেই খিচুড়ির কথা। যার স্বাদ আমার জিভে আজও লেগে আছে। মনে পড়লেই মনে অজান্তে একফোটা পানি গড়িয়ে পড়ে।
তারপর আরো অনেকবার গিয়েছি সেই ফার্ম হাউসে।  অনেক মজার মজার খাবারও খেয়েছি তবে সেদিনের খিচুড়ির কাছে সব নস্যি।
সেই মজাদার রেসিপি জানা বাবার মেয়ে নূপুর। তার রান্নার বিষয়ে দ্বিমত থাকার কথা ! বাবার মতো স্বাদ করে খিচুড়ি রান্না করে খাইয়েছে মাস্টার শেফের জাজদের। আমাদের দেশের সাধারণ সব খাবারকে এক অন্যরকম উচ্চতায় নিয়ে গেছে নূপুর তার অসাধারণ শিল্প মাধুর্য আর সুনিপুণ পরিবেশন যাদুর মিশ্রনে।
তবে যেদিন নূপুর নেহারি করল আমার তখন সেই মুহূর্তেই মনে হয়েছে এর পর পান্তা ভাত, পান্তা ভাত- আর সেটা হলেই আমাদের ‘বাংলাদেশ’ পুরো মাস্টার শেফের কিচেন জয় করে নেবেই।
যে বলিষ্ঠ দৃঢ়তায় নূপুর মিষ্টি পানকে অপূর্ব পরিবেশনের মাধ্যমে তুলে দিয়েছে জাজদের হৃদয়ে সেখানে পান্তা ভাতের বিশেষ প্রয়োজন ছিল।
নূপুর আজ যে ভাবে পান্তা ভাত, আলু ভর্তা তার উপরে টকটকে লাল মরিচ পোড়া আর ইলিশের বিকল্প সারডিনের মচমচে ভাজা আর পেয়াজের সালসা পরিবেশন করেছে , আমি জানি যারা যারা দেশ ছেড়ে বিদেশের মাটিতে বসে দেখেছে তাদের সবার চোখ ভিজেছে আর মনের ভেতরে অস্থির এক উত্তেজনা কাজ করেছে। অনেক ভালবাসা শুধুই নূপুরের জন্য। কিশোয়ারের জন্য।
নূপুর দেশ ছেড়ে এলেও ভুলে যায়নি তার দেশের সংস্কৃতি। তাইতো বিশ্ব দরবারে নিজের দেশকে প্রেজেন্ট করেছে। বাবা মায়ের লালিত সংস্কৃতি আর প্রচণ্ড মনোবল নিয়ে হাসিমুখে চোখের কোণে চকচকে অশ্রু রেখা নিয়ে চলে এসেছে দ্বিতীয় স্থানে। আমাদের অহংকার সত্যি মাথা তুলে দাঁড়িয়ে গেছে আর প্রার্থনায় রয়েছে নূপুরের কপালে প্রথম স্থান তিলক আঁকার অপেক্ষা।
আমাদের সবার গর্ব তুমি কিশোয়ার। এত্ত এত্ত আদর আর ভালবাসা তোমার জন্য। তুমি জয়ী এবং জয়ী নিশ্চিত জয়ী। তোমার বিজয়ের অপেক্ষায় বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা সকল বাঙালী।

Related posts

যেভাবে দূর হবে ডাবল চিন!

razzak

ফ্লোরিডার মিয়ামিতে ভবন ধস, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৮

Irani Biswash

আমেরিকাসহ ১০ দেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করল ইসরায়েল

razzak

Leave a Comment

Translate »