সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২২
MIMS 24
জনদুর্ভোগ জাতীয় জীবনধারা দুর্ঘটনা ধর্ম ও জীবন বাংলাদেশ ব্রেকিং স্বাস্থ্য

বিরল রোগে আক্রান্ত দুই ভাইয়ের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে সাহায্যের আবেদন

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সংবাদদাতা:  মো. রহিম (৪০) ও মো. অলি (৩৫) দুই ভাই। বয়সে ৫ বছরের পার্থক্য হলেও দুজনে দেখতে একই রকম। এমনকি তারা একই রোগে আক্রান্ত। ডাক্তারী ভাষায় বলা হয় অ্যানেনসেফালি  বা মগজ কম। রহিম-অলি চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুর পৌরসভার বিশ্বাসপাড়া মহল্লার মৃত ফানসুর আলী ও মোসা. তাহমিনা বেগম দম্পতির ছেলে। তারা এই বিরল রোগ অ্যানেনসেফালি নিয়ে জন্মগ্রহণ করেছে। এ কারণে তাদের কর্মক্ষমতা নেই। হাঁটাচলা তো দূরের কথা, দুই ভাই কথাও বলতে পারেন না, খেতেও পারেন না নিজ হাতে। তারা শারীরিক ও মানসিক ভারসাম্যহীনতা এবং দৈহিক গঠনের কারণে সবার কাছে অবহেলা-উপহাসের পাত্র । তাদের মা মোসা. তাহমিনা বেগম (৬৫) মনে করেন- তার দুই ছেলে স্বর্গ থেকে এসেছে।

সকালে ঘুম থেকে ওঠা থেকে রাতে ঘুমানো পর্যন্ত তাদের সবকিছুই করতে হয় মা তাহমিনা বেগমকে। এমনকি মা একটু চোখের আড়ালে গেলেই বাইরে চলে যান রহিম-অলি। তাই তাহমিনা বেগম বাড়ি থেকে বের হলে একজনকে ঘরের মধ্যে আটকে এবং আরেকজনকে দড়ি দিয়ে বেঁধে রেখে যান।

একদিকে গত চার দশক ধরে অসুস্থ দুই ছেলে, অন্যদিকে দারিদ্র্য। আট সদস্যের পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি রহিম-অলির বড় ভাই শাহাদাত হোসেন তোতা। ছোট্ট একটি মুদি দোকান চালিয়ে প্রতিবন্ধী দুই ভাইকে আগলে রেখেছেন। স্বামী মারা যাওয়ার পর মা তাহমিনা বেগম দারিদ্র্যের সঙ্গে যুদ্ধ করে বড় করেছেন অসুস্থ রহিম-অলিসহ তিন ছেলে ও এক মেয়েকে। গত ৪০ বছর ধরে দুই ছেলেকে চোখে চোখে রেখেছেন। তিনি জানেন, তার চোখেই দুনিয়া দেখে দুই ছেলে, তার পা দিয়েই হেঁটে চলে রহিম-অলি।

তাহমিনা বেগম বলেন, সব সময় একটা চিন্তায় থাকি, আমার তো বয়স হয়েছে। আমি না থাকলে তাদের কী হবে? কারণ তারা কারও কাছে থাকে না, কারও হাতে খায় না। দুই ভাইয়ের একজন তো মাকে ছাড়া ঘুমাতেই পারে না। তাদের জন্য এই চিন্তায় রাতে ঘুমও আসে না।

তিনি আরও বলেন, জন্মের পর থেকে তাদের মাথার আকৃতি ছোট ছিল। এরপর স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে ডাক্তাররা জানান- আমার ছেলেদের মাথায় মগজ কম। এর নাকি চিকিৎসাও নেই। এরপর থেকে তাদেরকে নিয়ে এভাবেই চলে যাচ্ছে। ঘুম থেকে উঠে প্রসাব-পায়খানা করানো, হাত-মুখ ধুয়ে দেওয়া দিয়ে দিনের শুরু হয়। এরপর মুখে খাবার তুলে দেওয়া, জামা-কাপড় পরানো, গোসল করানো সবকিছুই আমি করে দিই। এক কথায় তারা কিছুই করতে পারে না।

তাহমিনা বেগম জানান, সবাই তাদেরকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য, অবহেলা করলেও তাদেরকে নিয়ে ভালোই আছেন তিনি। নিজের পছন্দ, ভালোলাগা-মন্দলাগা বলে কিছুই নেই তাহমিনা বেগমের। ছেলেদের ভালো রাখাই তার সুখের একমাত্র উপাদান। এতো কষ্ট আর অবহেলা নিয়েও সুখী তাহমিনা বেগম, কিন্তু তার চিন্তা বা কষ্ট একটাই। তা হলো তার মৃত্যুর পর দুই ছেলে রহিম-অলির কী হবে?

তাহমিনা বেগমের বড় ছেলে মুদি দোকানি শাহাদাত হোসেন তোতা বলেন, আমার আয় খুবই সামান্য হলেও মা-ভাইদের নিয়ে একসঙ্গে থাকতে পারাটাই আমার কাছে আনন্দের। প্রতিবন্ধী হিসেবে দুনিয়ায় এসেছে, কিন্তু তারাও তো একই সৃষ্টিকর্তার তৈরি। আর্থিক অনটনে থাকায় সাময়িক মন খারাপ হলেও ভাইদের কখনো বোঝা মনে করেন না বলে জানান শাহাদাত।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. গোলাম রাব্বানী জানান, অ্যানেনসেফালি আক্রান্তরা মায়ের পেট থেকেই এমন রোগ নিয়ে আসে। চিকিৎসা করে সুস্থ করে তোলার কোনো ব্যবস্থা নেই। তবে সঠিকভাবে খেয়াল রেখে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করলে তারা অনেকটাই ভালো থাকে। তাই সকলের উচিত তাদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করা এবং তাদের চলাফেরায় সহযোগিতা করা।

তিনি আরও বলেন, মা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ নেয়ামত, রহিম-অলির মাকে দেখলে এর প্রমাণ পাওয়া যায়। তাদের বিষয়ে জানার পর মনে মনে ভাবছি- বৃদ্ধা মায়ের মৃত্যুর পর তাদের কী হবে, কোথায় যাবে, কার কাছে থাকবে। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব রোগীদের জন্য আন্তরিকভাবে কাজ করছেন। সরকারি সুযোগ-সুবিধার আওতায় নিয়ে আসতে পারলে এবং গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক অধিকার খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থানের ব্যবস্থা করতে পারলে তাদের জীবনযাপন কিছুটা হলেও স্বাভাবিক থাকবে।

Related posts

জার্মান-অস্ট্রিয়ান নাগরিকদের দ্রুত ইউক্রেন ছাড়ার নির্দেশ

razzak

তীব্র হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যে ভারতীয় পণ্য বর্জনের ডাক

razzak

ইমরান খানের বিরুদ্ধে ১৬ মামলা

razzak

Leave a Comment

Translate »