অক্টোবর ৫, ২০২২
MIMS 24
এই মাত্র জাতীয় বাংলাদেশ ব্রেকিং

গৃহহীনদের ‘স্বপ্ন নগরে’ ঠাই পেল আড়াইশ’ পরিবার

প্রস্তুত সারি সারি ঘর। প্রতিটি ঘরই দুই কক্ষ বিশিষ্ট। রয়েছে বাথরুম ও রান্না ঘর। প্রতিটি ঘরই বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত। বিশাল এলাকাাজুড়ে এ রকম ঘর রয়েছে ২৫০টি। আর এইসব ঘর গুলোতে গৃহহীন, ভূমিহীন, অসহায়, দরিদ্র, প্রতিবন্ধী, নদীভাঙ্গন কবলিত মানুষেরা ঠাঁই পেলো। মুজিববর্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার হিসাবে এ ঘর গুলো প্রদান করা হয়। দেশের মধ্যে সবচে বড় জায়গাজুড়ে এবং একসাথে ২৫০টি ঘর নেই আর কোন স্থানে।

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের মধুমতি নদীর তীরবর্তী গ্রাম হচ্ছে চরকাতলাসুর। সেই চরকাতলাসুর গ্রামেই নির্মিত হয়েছে দেশের সবচাইতে বড় আশ্রয়ন প্রকল্পটি। গৃহহীন অসহায় মানুষের স্বপ্নকে সার্থক করতেই এই গ্রামটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘স্বপ্ন নগর’। কি নেই এই ‘স্বপ্ন নগরে’। হাইস্কুল, মসজিদ-মাদ্রাসা, ঈদগা, করবস্থান, মন্দির, শশ্মান, কমিউনিটি ক্লিনিক, খেলার মাঠ, হাট-বাজার, ইকোপার্ক, শিশু পার্কসহ বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা।

শুক্রবার দুপুরে ‘স্বপ্ন নগরের’ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। এসময় প্রতিটি পরিবারের হাতে ঘরের চাবি বুঝিয়ে দেন ফরিদপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মনজুর হোসেন বুলবুল। এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক অতুল সরকার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার তৌহিদ এলাহি, উপজেলা চেয়ারম্যান জাহিদুল হাসান জাহিদসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। সরকারের তরফ থেকে ঘর গুলো পেয়ে খুশি ভূমিহীন গৃহহীন অসহায় মানুষেরা।

স্বপ্ন নগরের কয়েক বাসিন্দা জানান, ঘর পেয়ে তারা নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখছেন। অনেকেই নদী ভাঙ্গনের শিকার হয়ে সবকিছু হারিয়ে নিঃস্ব অবস্থায় রাস্তার পাশে আশ্রয় নিয়েছিলেন। এখন তারা স্থায়ী ঠিকানা পেয়েছেন। এখন তাদের ছেলে মেয়েদের বিয়ে দিতে আর কোন সমস্যা হবে না।

ঘরের চাবি পেয়ে সুখের কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন এক বৃদ্ধা। তিনি বলেন, ‘বাড়ি ঘর যা ছিল সব নদীতে গেছে। স্বামী মারা যাবার পর রাস্তায় রাস্তায় ঘুরেছি। অন্যের বাড়িতে থাকছি। এহন থাকার জায়গা পাইছি। শেষ বয়সে শান্তিতে মরতে পারুম।’

বিধবা নারী কুলসুম জানান, তার কোন থাকার জায়গা ছিল না। অন্যের বাড়িতে কোন রকম খেয়ে না খেয়ে থাকতেন। এখন তিনি একটি ঘরের মালিক। ঘরের পাশেই সবজির বাগান করবেন। একটি মুদি দোকান দেবারও ইচ্ছে রয়েছে তার। রহমত আলী নামের এক ব্যক্তি জানান, ছেলে মেয়ে নাই, সারাদিন ভিক্ষে করে যা পাই তা দিয়ে কোনমতে চলে যেতো। যেখানে রাত হতো সেখানেই শুয়ে থাকতাম। এখন ঠিকানা পাইছি। মনে বড় শান্তি লাগছে।

আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার তৌহিদ এলাহি জানান, চরকাতলাসুর গ্রামের বিশাল একটি জায়গা স্থানীয় প্রভাবশালীরা দখলে রেখেছিল। সেই জায়গাটিতেই নির্মান করা হয়েছে ‘স্বপ্ন নগর’। জায়গাটি উদ্ধার করতে গিয়ে নানা সমস্যার মধ্যে পড়তে হয়েছিল তাদের। তিনি বলেন, এই স্বপ্ন নগরে থাকবে সকল সুযোগ-সুবিধা। একটি আধুনিক গ্রামে যে সকল সুযোগ সুবিধা থাকে এই স্বপ্ন নগরে সবকিছুই থাকবে। এখানকার বাসিন্দাদের স্বাবলম্বি করতে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। যে যেই কাজ পারবে তাকে সেই কাজে লাগানো হবে। যাতে করে তারা নিজেরাই নিজেদের আয় দিয়ে সংসার চালাতে পারে।

Related posts

দক্ষ জনশক্তি ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়ার সহযোগিতা কামনা

Irani Biswash

২০৩০ সালে রমজান আসবে দুইবার

razzak

করোনায় স্বস্তি ফিরলেও আতঙ্ক ছড়াচ্ছে ডেঙ্গি

razzak

Leave a Comment

Translate »