জাতীয়

জাতির পিতা হত্যার চক্রান্তে শুরু থেকেই ছিলেন জিয়া: শিক্ষা উপমন্ত্রী

শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেছেন, জিয়াউর রহমান শুরু থেকেই জাতির পিতা হত্যার চক্রান্তের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে যুদ্ধ করতে চাননি। চাক্ষুস প্রমাণ আছে। আমাদের বীর মুক্তিযোদ্ধা জননেতা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনসহ অনেক বীর মুক্তিযোদ্ধা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। জিয়ার কীর্তিকলাপ তারা দেখেছেন।

শনিবার চট্টগ্রাম নগরের স্টেশন রোডের মোটেল সৈকত মিলনায়তনে হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্ট চট্টগ্রাম শাখার উদ্যোগে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বঙ্গবন্ধু হত্যার মধ্য দিয়ে জাতি ১০০ বছর পিছিয়ে গেছে উল্লেখ করে নওফেল বলেন, রাতারাতি বাংলাদেশকে ধর্মীয় রাষ্ট্র করার চেষ্টা হলো, যা আমরা কখনো চাইনি। কয়েক প্রজন্মের বই-খাতায় ইতিহাস বিকৃতি করলেন জিয়াউর রহমান।

তিনি আরো বলেন, যারা বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদ করেছেন তাদের বিরুদ্ধে মামলা, হামলা, হুলিয়া জারি করেছেন। জিয়াউর রহমান পরিকল্পিতভাবে শতশত মানুষকে হত্যা করেছেন। মুক্তিযোদ্ধাদের হয় বরখাস্ত করেছেন নয়তো হত্যা করেছেন। চট্টগ্রাম ষড়যন্ত্র মামলায় যারা আসামি তারা বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের দাবিতে প্রতিবাদকারী।

ইউনেস্কো স্বীকৃত ৭ই মার্চের ভাষণের কোনো কথা বিএনপির লোকেরা বলে না উল্লেখ করে শিক্ষা উপমন্ত্রী বলেন, তারা উদযাপনও করে না। এ ঐতিহাসিক ঘটনা তারা স্বীকার করে না। ১৫ আগস্টে তারা আগে কেক কাটতো। বিএনপি মানুষ মারার দল, ভাড়াটে লোকের দল। দেশে অনেক রাজনৈতিক দল আছে। কিন্তু জিয়াউর রহমানের আরো লাগবে।

তিনি আরো বলেন, জিয়াউর রহমানের সঙ্গে বঙ্গবন্ধু হত্যার চক্রান্তে যারা জড়িত তাদের খুঁজে বের করতে হবে। জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত-এটা স্বীকার করার জন্য মির্জা ফখরুল ইসলামের প্রতি আহ্বান জানাই। সত্য প্রকাশের সৎ সাহস যদি থাকে স্বীকার করুন।

নওফেল বলেন, যারা বাংলাদেশে বিশ্বাসী তারা সবাই সমান। ওরাই সংখ্যায় কম যারা বাংলাদেশে বিশ্বাসী নয়। আমরা বাংলাদেশের সংবিধানে, সমান অধিকারে বিশ্বাসী। যারা বাংলাদেশে বিশ্বাসী নয় তারা নোংরা রাজনীতি করে। ধর্মভিত্তিক রাজনীতি সৌদিতেও নেই। যারা আমাদের সঙ্গে নেই তারা রাষ্ট্রবিরোধী।

হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি উত্তম কুমার শর্মার সভাপতিত্বে এবং মন্দিরভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম প্রকল্পের সহকারী পরিচালক রিংকু কুমার শর্মার সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. শিরীণ আখতার, উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. বেনু কুমার দে।

এছাড়া অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চসিকের ওয়ার্ড কাউন্সিলর জহর লাল হাজারী, আব্দুস ছালাম মাসুম, পুলক খাস্তগীর, সংরক্ষিত ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নিলু নাগ, রুমকি সেনগুপ্ত প্রমুখ।

এ সময় বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে অনুদানের চেক হস্তান্তর করেন শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।

Related posts

যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা নিয়ে দুই নোবেল বিজয়ীর মতামত

Irani Biswash

সাত বিশ্ববিদ্যালয়ে হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা

razzak

ইউক্রেনে প্রাণ হারানো সেই নাবিকের মরদেহ আসছে

razzak

Leave a Comment

Translate »