এই মাত্র জাতীয়

জনগণকে উন্নত জীবন দিতে পারাটাই হবে ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত প্রতিশোধ: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা জাতির পিতা হত্যার ষড়যন্ত্রকারী এবং ক্ষেত্র প্রস্তুতকারী উভয়কেই বিচারের সম্মুখীন করার সংকল্প ব্যক্ত করে বলেছেন, এ দেশের দুঃখী জনগণের মুখে হাসি ফোটানোই হবে ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত প্রতিশোধ।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের দুঃখী, নিরন্ন জনগণের খাদ্য, বস্ত্র, চিকিৎসা এবং উন্নত জীবনের ব্যবস্থা করা যেটা জাতির পিতার আজীবন লালিত স্বপ্ন, সেই ব্যবস্থা যখন করতে পারবো সেদিনই আমি মনে করি এ হত্যার প্রকৃত প্রতিশোধ নিতে পারবো।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ হত্যাকাণ্ডের বিচার করাটা জরুরি ছিল সেটা করেছি এবং কারা জড়িত ছিল একদিন সেটাও বের হবে। সেদিনও খুব বেশি দেরি নয়। এ হত্যাকাণ্ড যারা ঘটিয়েছে এবং যারা পাশে ছিল, ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছে, সবাই কিন্তু সমানভাবে দোষী।

প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা সোমবার বিকেলে জাতির পিতার ৪৬তম শাহাদতবার্ষিকী এবং ১৫ই আগস্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত স্মরণ সভায় সভাপতির ভাষণে এসব কথা বলেন।

তিনি গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ২৩ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মূল অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তখনকার পত্র-পত্রিকাগুলো পড়লেই অনেক কিছু স্পষ্ট হয়ে যাবে। একটা বিধ্বস্ত দেশ গড়তে যেখানে বছরের পর বছর লেগে যায় সেখানে একটি বছরও সময় দেওয়া হলো না, সঙ্গে সঙ্গে সমালোচনা শুরু হলো। ধৈর্য না ধরে নানা সমালোচনা, নানা কথা লেখা হলো। কারা এগুলো লিখেছিল, কাদের খুশি করতে এবং এ হত্যাকাণ্ডের জন্য গ্রাউন্ড প্রিপেয়ার কারা করছিল?

আত্মস্বীকৃত খুনি ফারুক-রশিদের বিবিসিতে প্রদত্ত ইন্টারভিউ এর উদ্ধৃতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ হত্যাকাণ্ড যারা ঘটিয়েছে এবং যারা পাশে ছিল, ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছে সবাই কিন্তু সমানভাবে দোষী।

শেখ হাসিনা বলেন, একটা জিনিস চিন্তা করেন ’৭২ সালের ১০ জানুয়ারি জাতির পিতা দেশে ফেরেন এবং সেই ’৭২ সাল থেকেই এদেশে ষড়যন্ত্র শুরু। মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে বিভক্তি হলো, জাসদ সৃষ্টি হলো, পাকিস্তানি হানাদারবাহিনীর দোসরা যারা এদেশে থেকে গিয়েছিল সব আন্ডারগ্রাউন্ড পার্টির সঙ্গে মিশে গেল।

তিনি বলেন, এ হত্যাকাণ্ডের বিচার করাটা জরুরি ছিল, সেটা করেছি এবং কারা জড়িত ছিল একদিন সেটাও বের হবে। সেদিনও খুব বেশি দেরি নয়। তবে, আমার একটাই লক্ষ্য ছিল আমি সবসময় বলেছি বাংলাদেশের দুঃখী নিরন্ন জনগণের খাদ্য, বস্ত্র, চিকিৎসা এবং উন্নত জীবনের ব্যবস্থা, যেটা জাতির পিতার আজীবন লালিত স্বপ্ন। সেই ব্যবস্থা যখন করতে পারবো সেদিনই আমি মনে করি এ হত্যার প্রকৃত প্রতিশোধ নিতে পারবো।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সভায় প্রারম্ভিক বক্তৃতা করেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে ’৭৫ এর ১৫ আগস্টে শহিদ জাতির পিতা, বঙ্গমাতা এবং তাদের পরিবারের শাহাদতবরণকারী সদস্যদের সম্মানে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

স্মরণ সভায় শ্রদ্ধা নিবেদন করে সাবেক মন্ত্রী এবং দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, কৃষিমন্ত্রী এবং দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক ও অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং আব্দুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ এমপি ও আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, দফতর সম্পাদক এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া এবং ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা বক্তৃতা করেন।

আরো বক্তৃতা করেন ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম মান্নান কচি, দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির প্রমুখ।

দলের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আব্দুস সোবহান গোলাপ এমপি গণভবন থেকে সভাটি সঞ্চালনা করেন।

বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, জাতির পিতা রক্ত দিয়ে গেছেন এদেশের মানুষের জন্য, রক্ত দিয়ে গেছেন আমার মা, আমার ভাইয়েরা। আমিও সেই রক্ত দিতেই বাংলাদেশে পা রেখেছি।

তিনি বলেন, মৃত্যুকে সামনাসামনি দেখেছি। কিন্তু কোনোদিন আমি ভীত হইনি, আমি ভীত হবো না। কারণ আমি প্রস্তুত। আমি তো জানি যেকোনো মুহূর্তে আমাকে চলে যেতে হবে। যেটুকু সময় আছে দেশের জন্য যেন কাজ করতে পারি।

তিনি বলেন, আমার জীবনের কোনো মায়া নেই, আমার কোনো কিছু চাওয়ার নেই। আমার একটাই চাওয়া যেই আদর্শ নিয়ে আমার বাবা এদেশ স্বাধীন করেছেন তার সেই আদর্শ বাংলার মানুষের কাছে পৌঁছে দেবো। এটাই আমাদের প্রতিজ্ঞা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে ১৫ই আগস্টের এটাই আমাদের প্রতিজ্ঞা হবে যে, ওই রক্ত কখনো বৃথা যায়নি, বৃথা যাবে না, বৃথা যেতে আমরা দেবো না। এদেশের দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাবো যাতে আমার বাবা, মা, ভাইয়ের আত্মা শান্তি পায়। সেটাই আমি চাই।

দেশবাসীর দোয়া চেয়ে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ অনেক দূর এগিয়ে গিয়েছে। এখন বাংলাদেশ স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করছে। তবে করোনা মোকাবিলায় তিনি সবাইকে সাবধান করে পুনরায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কথা স্মরণ করিয়ে দেন।

Related posts

টাকার মান আরেক দফা কমল

razzak

টেনিস থেকে অবসরের ঘোষণা কিংবদন্তি রজার ফেদেরারের

Mims 24 : Powered by information

শোকাবহ জেল হত্যা দিবস আজ

Mims 24 : Powered by information

Leave a Comment

Translate »