এই মাত্র জাতীয় বাংলাদেশ ব্রেকিং শিক্ষা

বিশ্ব র‌্যাংকিংয়ে দেশের তিন বিশ্ববিদ্যালয়

বাংলাদেশ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। সামাজিক, অর্থনৈতিক নানা সূচকে দক্ষিণ এশিয়ার শীর্ষে উঠে এসেছে বাংলাদেশের নাম। কিন্তু শিক্ষায় আমাদের অগ্রগতি খুবই ক্ষীণ। লন্ডনভিত্তিক টাইমস হায়ার এডুকেশন (টিএইচই) প্রতিবছর বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর যে তালিকা প্রকাশ করে তাতে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ক্রমাগতভাবে পিছিয়ে যেতে থাকে। ২০১৬ সালের তালিকায় ৬০০ থেকে ৮০০ নম্বরের গ্রুপে ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। এরপর এক হাজার বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যেও স্থান হয়নি বাংলাদেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের।

জানা যায়, টিএইচই ৯৩টি দেশের প্রায় ১০ হাজার বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্য থেকে এক হাজার ৬৬২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বশেষ যে তালিকা প্রকাশ করেছে তাতে বাংলাদেশের তিনটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থান পেয়েছে। এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত সুখের একটি সংবাদ। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি), বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি)।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ, গবেষণার সংখ্যা ও সুনাম, সাইটেশন বা গবেষণার উদ্ধৃতি, এ খাত থেকে আয় এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগ বা সংশ্লিষ্টতাসহ পাঁচটি মানদণ্ডে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর র‌্যাংকিং করা হয়। বৃহস্পতিবার টিএইচইর অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে এই তালিকা প্রকাশ করা হয়। র‌্যাংকিংয়ে বরাবরের মতোই দক্ষিণ এশিয়ার শীর্ষে রয়েছে ভারত। সেরা ৪০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ভারতের তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। আর এশিয়ায় এবারও চীনের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে। এবার টিএইচইর তালিকায় বাংলাদেশের তিনটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় আমরা আনন্দিত। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। একই সঙ্গে আশা করছি এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আগামী বছরগুলোতে তালিকার আরো ওপর দিকে উঠে আসবে। শুধু এই তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ই নয়, বাংলাদেশের অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও তালিকায় নিজেদের অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে, এমনটাই আমাদের প্রত্যাশা।

অতীতে শিক্ষাঙ্গনগুলো নষ্ট রাজনীতির আখড়া হয়ে উঠেছিল। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ছাত্রদের বেছে নিত ক্যাডার বাহিনী তৈরির জন্য। শিক্ষকরাও পিছিয়ে থাকেননি দলীয় রাজনীতি থেকে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার পরিবেশ সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গিয়েছিল। এমনও সময় গেছে, যখন এমন কোনো রাত ছিল না যে রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গুলির আওয়াজ হতো না। ক্ষমতাসীন দলের ছাত্ররা আরো একধাপ নিচে নেমে গিয়ে টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, অপহরণ, ছিনতাইসহ নানা অপকর্মে জড়িয়ে গিয়েছিল। ব্যবসায়ীদের ধরে নিয়ে হলে আটকে রেখে মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনাও ঘটেছে। দুঃখজনক হলেও সত্য যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হয়ে উঠেছিল মাদক-সন্ত্রাসের বড় আখড়া। বর্তমান সরকার বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নে যথেষ্ট মনোযোগ দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পরিবেশ অনেকটাই উন্নত হয়েছে। তারই ফল ফলতে শুরু করেছে। আবারও বিশ্ব র‌্যাংকিংয়ে ফিরে আসছে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। এই ধারা অব্যাহত রাখতে হবে।

আমরা স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশে রূপান্তরিত হচ্ছি। অর্থনৈতিকভাবে দেশ অনেক এগিয়েছে। এখন প্রয়োজন উন্নয়নকে টেকসই করা। আর সে জন্য শিক্ষার মানোন্নয়নে আমাদের সর্বাধিক গুরুত্ব আরোপ করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার পরিবেশ আরো উন্নত করতে হবে। গবেষণায় অনেক বেশি সহযোগিতা দিতে হবে।

Related posts

বাংলাদেশের গানে নারগিস ফাখরি

razzak

১৮০ বছর আগে যেভাবে চা এলো দেশে

razzak

সপ্তাহটি কেমন যাবে ১২ রাশির জাতক জাতিকার

Irani Biswash

Leave a Comment

Translate »