অক্টোবর ৫, ২০২২
MIMS 24
এই মাত্র প্রবাস কথা ব্রেকিং

আপত্তির মুখে ‘জিয়াউর রহমান ওয়ে’ নামফলক সরিয়ে ফেলা হলো

যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী সংলগ্ন ম্যারিল্যান্ড স্টেটের বাল্টিমোর সিটির ২০০ ওয়েস্ট সারাটগা স্ট্রিট থেকে ‘জিয়াউর রহমান ওয়ে’ নামফলক সরিয়ে ফেলা হয়েছে। ৯ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার দুপুরে সিটির কর্মকর্তারা সেটি খুলে নিয়েছেন। একই এলাকার বাসিন্দা বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের যুক্তরাষ্ট্র শাখার প্রেসিডেন্ট বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. খন্দকার মনসুর সরিয়ে ফেলার সংবাদ নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে।

ড. মনসুর জানান, জিয়াউর রহমান একজন ঠান্ডা মাথার ঘাতক। তার নামে ঐ সড়কের নামকরণের পরই আমরা বাল্টিমোর সিটি মেয়র অফিসে আপত্তি জানিয়েছিলাম। এ নিয়ে দেন-দরবারও হয়েছে বিভিন্ন সময়ে। অবশেষে সিটি মেয়র ব্র্যান্ডন এম স্কট অনুধাবনে সক্ষম হয়েছেন যে, এমন একজন মানুষকে এভাবে সম্মান জানানো উচিত হয়নি। এরপরই সিটির ট্র্যান্সপোর্টেশন ডিভিশনের কর্মকর্তাদের তিনি নির্দেশ দিয়েছেন নামফলকটি সরিয়ে ফেলার জন্যে। এ ব্যাপারে সিটি কাউন্সিলে আগে পাশ হওয়া রেজ্যুলেশনও বাতিল করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

২০ জুন অর্থাৎ ৮০ দিন আগে বিএনপির নেতা-কর্মীদের উল্লাসের মধ্যে সিটি প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই নামফলক উন্মোচন করা হয়েছিল। এটি সম্ভব হয়েছিল ম্যারিল্যান্ড স্টেট বিএনপির আহবায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য এবং স্থানীয় ব্যবসায়ী মোহাম্মদ কাজলের চেষ্টায়। নামফলক সরিয়ে নেয়ার পরই কাজলের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি টেলিফোনে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘আমি সিটি মেয়রসহ সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে জানতে চেয়েছি বিষয়টি। সিটি ট্র্যান্সপোর্টেশন ডিভিশনের একজন কর্মকর্তা আমাকে জানিয়েছেন যে, একটি মহল জিয়াউর রহমান সম্পর্কে নানা তথ্য দিয়েছেন এবং তারা উল্লেখ করেছেন যে, এই নামফলক না সরালে কমিউনিটিতে বড় ধরনের দু:খজনক পরিস্থিতির অবতারণা হতে পারে।’

মোহাম্মদ কাজল বলেছেন, আমি যথানিয়মেই সিটি কাউন্সিলে সিদ্ধান্তটি পাশ করিয়েছিলাম। এখানে লোকোচুরির কিছু ছিল না।
জিয়াউর রহমানের নামে এই সড়কের নামকরণ করার পরই বঙ্গবন্ধুর চেতনায় উজ্জীবিত সাধারণ প্রবাসীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বাল্টিমোর সিটি এবং ম্যারিল্যান্ড স্টেট প্রশাসনে আবেদন জানিয়েছিলেন অবিলম্বে নামফলক নামিয়ে ফেলার জন্যে। এলাকাবাসীর ক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে সিটি মেয়রের এই সিদ্ধান্তটি কমিউনিটিতে অভিনন্দিত হয়েছে বলে জানালেন ওয়াশিংটন মেট্র এলাকার আওয়ামী লীগ নেতা এবং আসন্ন ৩৫তম ফোবানা সম্মেলনের হোস্ট কমিটির সদস্য-সচিব শিব্বির আহমেদ।

বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সভাপতি ড. খন্দকার মনসুর বলেন, বিএনপির এক নেতার অর্থে সিটি প্রশাসনের কোন কোন কর্মকর্তা কর্তৃক এই নামফলক উম্মোচনের পরই আমি দরখাস্ত দিয়েছি সিটি মেয়র বরাবরে। জিয়াউর রহমান সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য উল্লেখ করা হয় ঐ পত্রে। আজ আমি খুশী যে, জিয়াউর রহমানের মত একজন দুষ্ট লোকের ব্যাপারে বাল্টিমোর সিটি প্রশাসন সঠিক ধারনা পেয়েছেন। এ ধরনের আর কোন অপতৎপরতাকে আমরা ম্যারিল্যান্ড স্টেটে চলতে দেব না।

পৃথক বিবৃতিতে বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের যুক্তরাষ্ট্র শাখার সেক্রেটারি আব্দুল কাদের মিয়া, মেট্রো ওয়াশিংটন আওয়ামী লীগের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট শিব্বির আহমেদ, ভাইস প্রেসিডেন্ট জুয়েল বড়ুয়া এবং যুবলীগ নেতা দেওয়ান আরশাদ বিজয় পৃথক পৃথকভাবে বাল্টিমোর সিটি মেয়রকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন নিজেদের ভুল সংশোধনের জন্যে। তারা উল্লেখ করেছেন, জিয়াউর রহমান শুধু স্বৈরশাসক ছিলেন না, তিনি বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের হত্যাকাণ্ডেও জড়িত ছিলেন। যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল তাহেরসহ শতশত সৈনিক অফিসারকে হত্যা করেছেন তিনি।

এদিকে, নামফলক সরিয়ে ফেলার ঘটনাকে বাঙালি জাতির কলংকমুচনের ক্ষেত্রে বড় একটি বিজয় বলে অভিহিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটসে তাৎক্ষণিক এক প্রেস ব্রিফিংকালে সিদ্দিকী বলেছেন, বাঙালি জাতির মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ঘাতক হিসেবে জিয়াউর রহমানকে ইতিহাসের কাঠগড়ায় অবশ্যই দাঁড়াতে হবে। একদল লোক মার্কিন প্রশাসনকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করেছিলেন, আমরা লাগাতার চেষ্টায় সেটি সংশোধনে সক্ষম হলাম। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত প্রবাসীরা এজন্যে উৎফুল্ল।

Related posts

‘জয় বাংলা’ কে জাতীয় স্লোগান করার সিদ্ধান্ত

razzak

বিশ্বব্যাপী করোনায় প্রাণহানি ৫৪ লাখ ছাড়াল

razzak

ফের রাশিয়া থেকে গম কেনার চেষ্টায় বাংলাদেশ

razzak

Leave a Comment

Translate »