সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২২
MIMS 24
এই মাত্র পাওয়া জীবনধারা বাংলাদেশ

বড়ই ফুলের মৌ মৌ ঘ্রানে মুখরিত বাগান

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে বড়ই ফুলের মৌ মৌ ঘ্রানে মুখরিত বাগান গুলো। বাগানে মৌমাছিরা ব্যাস্ত মধু সংগ্রহে। বড়ই ফুলে প্রজাপতির দল মনানদ্দে ঘুরে বেড়াচ্ছে। ভোরের কুয়াশা ভেজা পাতায় বিন্দু বিন্দু জল আর ফুটা ফলের ঘ্রাণ যেন প্রকৃতির এক অপুর্ব নৈসর্গিক সৌন্দর্য।

সম্প্রতি সরেজমিনে ভোরে একটি বড়ই (কুল) বাগানে গিয়ে দেখা যায় এমন দৃশ্য। অর্ধ শতাধিক বড়ই গাছ ফুলে ফুলে ছেয়ে গেছে বাগান। ফুলের সুবাস ছড়াচ্ছে চারদিকে। বড়ই পাতার ডগায় মৌমাছি উড়ছে মধু সংগ্রহে। প্রজাপতি বসছে এই ডগা থেকে ওই ডগা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবছর বড়ই (কুল) এর বাম্পার ফলনের আসা করছে চাষীরা। বাগানের পাশাপাশি প্রায় প্রতিটি বাড়ির উঠানে একাধিক বড়ই গাছে ফুলে ফুলে ছেয়ে যেতে দেখা গেছে।

উপজেলা জুড়েই ছোট-বড় বাগান ও নার্সরীতে বিভিন্ন ধরনের বড়ই চাষাবাদ হচ্ছে। এছাড়াও বাড়ির আঙ্গিনাতেও গাছ রয়েছে।

কটিয়াদী উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের উওর চরপুক্ষিয়ার বাসিন্দা হাজী দুলু মিয়ার ছেলে সাখাওয়াত হোসেন (৩৬)। তার সাথে কথা হয় প্রতিবেদকের। তিনি বলেন, ২৬ শতাংশ (১ বিঘা) জমিতে বড়ই (কুল) চাষ করেছেন। বাগানে আপেল জাতের বড়ই এর অর্ধ শতাধিক গাছ লাগিয়েছেন। গাছগুলো লাগিয়েছেন ৪ বছর আগে। দুই বছর পর থেকেই গাছে বড়ই হওয়া শুরু হয়। সার কীটনাশক সহ সবমিলিয়ে খরচ হয়েছিল ৪০ হাজার টাকা। প্রথম ফলনে সব খরচ বাদে ৮০ হাজার টাকার বড়ই বিক্রি করেছেন। পরের বছর ৯৭ হাজার টাকা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এই আরো আগের চেয়ে দিগুন বেশি বিক্রি করতে পারবেন বলে আশাবাদী তিনি। স্থানীয় পাইকাররা বড়ই কিনে নিয়ে যায়। স্থানীয় ভাবেও খুচরা বিক্রি হয় প্রতি কেজি ১০০ থেকে ১৫০ টাকা। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় রপ্তানি হয় এখানকার বড়ই।

সাখাওয়াত হোসেন বার্তা২৪.কম’কে বলেন, ‘বড়ই বাগান লাভজনক। তবে বুঝে শুনে ও কৃষি অফিসের পরামর্শ নিয়ে ভালো জাতের বড়ই চারা নিতে হবে। বড়ই চাষ তেমন কঠিন কিছু না, বুঝে করতে পারলে। দেশে বড়ই চাষ আরো বাড়াতে পারলে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বাহিরেও রপ্তানি করা সম্ভব।’

এছাড়াও উপজেলার লোহাজুরী, মসূয়া, বনগ্রাম, আচমিতা, মুমুরদিয়া, করগাও, সহশ্রম ধুলদিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় বাণিজ্যিক ভাবে বড়ই চাষ হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি অফিসার মুকছেদুল হক বার্তা২৪.কম’কে বলেন, ‘উপজেলায় অনেক বড়ই চাষাবাদ করছেন। বুঝে করতে পারলে ভালো সফলতার সুযোগ রয়েছে। আমরা কৃষকদের সকল পরামর্শ ও কারিগরি সহয়তা দিয়ে যাচ্ছি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবছর ভালো ফলন হবে৷’

Related posts

শাহবাজ শরিফকে নরেন্দ্র মোদির অভিনন্দন

razzak

কুয়ায় পড়ে যাওয়া শিশুকে উদ্ধারে ৪০ জন পড়ে যান, মৃত্যু ১১

Irani Biswash

একাত্তরের গণহত্যার বিচার যেকোনো সময়ই হতে পারে

Mims 24 : Powered by information

Leave a Comment

Translate »