ডিসেম্বর ৯, ২০২২
MIMS 24
এই মাত্র পাওয়া জনদুর্ভোগ জাতীয় জীবনধারা বাংলাদেশ

আজ ভয়াল ১২ নভেম্বর, লাখ লাখ মানুষ প্রাণ হারায়

আজ ভয়াল ১২ নভেম্বর। ১৯৭০ সালের এ দিনে মহা প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস উপকূলীয় অঞ্চলে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। লাখ লাখ মানুষ সেদিন প্রাণ হারায়। সেই ভয়াবহ স্মৃতি নিয়ে আজো বেঁচে রয়েছেন অনেকে। স্বজন হারানো সেই বিভীষিকাময় দিনটি মনে পড়তেই আঁতকে উঠছেন কেউ কেউ। দিনটি স্মরেণে আলোচনাসভা, সেমিনার, কোরআনখানি ও মিলাদ মাহফিল আয়োজন করা হয়েছে বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে।

উপমহাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলোর মধ্যে ৭০ সালের ঘূর্ণিঝড়ে সবচেয়ে বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল। শুধু ভোলাতেই লক্ষাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটে। আর অসংখ্য জনপদ বিরাণ প্রান্তরে রুপ নেয়। উত্তাল মেঘনা নদী আর তার শাখা-প্রশাখাগুলো রূপান্তরিত হয়েছিল লাশের মিছিলে। সে এক ভয়াবহ দৃশ্য। ঝড়ের আঘাতে লন্ড-ভন্ড হয়েছিলো পুরো ভোলা। নদীতে এতো লাশ ছিলো যে মহাকুমা প্রশাসন মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা জারি করে।

১৯৭০ সালের ১১ নভেম্বর বুধবার সকাল থেকেই গুড়িগুড়ি বৃষ্টি হতে থাকে। পরদিন ১২ নভেম্বর বৃহস্পতিবার আবহাওয়া আরো খারাপ হতে লাগল। মধ্যরাত থেকেই ফুঁসে উঠতে শুরু করে সমুদ্র। তীব্র বেগে লোকালয়ের দিকে ধেয়ে আসে পর্বতসম উঁচু ঢেউ। সেই ঢেউ আছড়ে পড়ল লোকালয়ের উপর। আর মুহুর্তেই ভাসিয়ে নিয়ে যায় মানুষ, গবাদি পশু, বাড়ি-ঘর, ক্ষেতের সোনালী ফসলসহ অনেক কিছু। পথে প্রান্তরে খোলা আকাশের নীচে পড়েছিলো কেবল লাশ আর লাশ। মরনপুরীতে রুপ নেয় ভোলাসহ গোটা অঞ্চল।

তৎকালীন দৈনিক পূর্বদেশ পত্রিকার স্থানীয় প্রতিনিধি ও ভোলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এম. হাবিবুর রহমান বলেন, বন্যার পরে দেখেছি সাপ আর মানুষ দৌলতখানের চৌকিঘাটে জড়িয়ে পড়ে আছে। স্নেময়ী মা তার শিশুকে কোলে নিয়ে মেঘনার পাড়ে মৃত অবস্থায়। সোনাপুরের একটি বাগানে গাছের ডালে এক মহিলার লাশ ঝুলছে। এমনিভাবে মনপুরা, চরফ্যাশন, লালমোহন, তজুমুদ্দিন ও দৌলতখানসহ সমগ্র জেলায় মানুষ আর গবাদি পশু সেদিন বঙ্গোপসাগরের উত্তাল জলে ভেসে গেছে।

তিনি বলেন, ঝড়ের আঘাতে নদীতে ভেসে থাকা জাহাজ, ট্রলার আছরে পড়েছিলো লোকালয়ে। টিএন্ডটি ভবনসহ সকল স্থাপনা ভেঙ্গে যায়। নিউজ পাঠানোর কোন মাধ্যম ছিলোনা। ঘটনার ৩দির পরে তিনি তৎকালীন বরিশাল জেলা প্রশাসক হাসেম আলীর অনুমোতি নিয়ে ভোলা থানার ওয়ারলেসযোগে পূর্বদেশ পত্রিকায় ‘বাংলার মানুষ কাদোঁ, গাছে গাছে ঝুলছে লাশ’ শিরোনামে সংবাদ পাঠান। এছাড়া একটি ট্রলারে করে ছবি পাঠান পত্রিকা অফিসে। ঘটনার ৪দিন পরে পত্রিকায় সংবাদ ছাপা হলে পুরো দেশ এবং বিদেশে এ নিয়ে আলোরিত হয়। বিভিন্ন স্থান থেকে ত্রাণ আসতে শুরু করে।

হাবিবুর রহমান আরো বলেন, ১৮ অথবা ১৯ তারিখে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার নির্বাচনী প্রচারণা বন্ধ করে এক জাহাজ ত্রাণ নিয়ে আসেন ভোলায়। সবচে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল মনপুরায়। মনপুরার ২৬ হাজার মানুষের মধ্যে ১৭ হাজারই সেদিন সাগরের জলে ভেসে গিয়েছিলো। জাতির পিতা ক্ষতিগ্রস্ত দুর্গত এলাকাসহ মনপুরায় সকলের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেন।

স্থানীয় একাধিক প্রবীণ ব্যক্তি জানান, ভয়াল সে রাত কেটে গেলে পরদিন শুক্রবার শহরময় ধ্বংস স্তুপ দেখা যায়। প্রায় এক কোমর পানি ছিলো সর্বত্র। চারধারে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল শুধু লাশ আর লাশ। স্থানীয় সেচ্ছাসেবকরা পানি ভেঙ্গে বেড়িয়ে পড়েন ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায়।

শহরের ২ নং ওয়ার্ডের প্রবীণ বাসিন্দা বিবি আছিয়া (৭৫) বলেন, সাধারণ মানুষ ভহাবহ এ তাণ্ডবের আগাম কিছুই জানতো না। তখনকার দিনে ঝড়ের পূর্বাভাস জানার ব্যবস্থাও ছিলোনা। রাতের দিকে যখন ঘরে পানি প্রবেশ শুরু হয়। মানুষের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। হঠাৎ করে মধ্যরাতে আছড়ে পড়া সেই ঝড়ে মাইলের পর মাইল ভাসিয়ে নিয়ে যায়। বাতাসে খর-কুটোর মত উড়ে যায় মানুষ। গাছের ডালে মৃত মানুষ পাওয়া যায়।

এ নারী দেখেছেন ঝড়ের পরে মানুষের মধ্যে হাহাকার, কি প্রচণ্ড অভাব। যুবকরা মানুষের কাছ থেকে টাকা উঠিয়ে অসহায়দের জন্য কাজ করত।

Related posts

মহিউদ্দিন চৌধুরী কখনো নীতি ও আদর্শ চ্যূত হননি : শিক্ষা উপ-মন্ত্রী

Mims 24 : Powered by information

লিওর সামনে মেসিহীন পিএসজি

razzak

রাশিয়ার সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণে যাচ্ছেন সিইসি

razzak

Leave a Comment

Translate »