ফেব্রুয়ারী ২, ২০২৩
MIMS 24
আন্তর্জাতিক এই মাত্র এই মাত্র পাওয়া জাতীয় বাংলাদেশ ব্রেকিং ব্রেকিং নিউজ যুক্তরাষ্ট্র

বছরে ৩ থেকে ৮শ রোহিঙ্গা নেবে যুক্তরাষ্ট্র; প্রথম ধাপের যাত্রা শুরু আগামীকাল ৮ ডিসেম্বর

বাংলাদেশ থেকে বছরে ৩০০ থেকে ৮০০ রোহিঙ্গা নেবে যুক্তরাষ্ট্র। প্রথম ধাপে নিচ্ছে ৬২ জন রোহিঙ্গা। বৃহস্পতিবার (৮ ডিসেম্বর) আনুষ্ঠানিকভাবে এ প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে বলেও জানিয়েছে দেশটি।

মঙ্গলবার (৬ ডিসেম্বর) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের জনসংখ্যা, শরণার্থী ও অভিবাসন বিষয়ক সহকারী মন্ত্রী জুলিয়েটা ভ্যালস নয়েসের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।

এর আগে মার্কিন সহকারী মন্ত্রী জুলিয়েটা ভ্যালস নয়েস কক্সবাজার সফর করে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত হন। পররাষ্ট্র মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠক শেষে পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন সাংবাদিকদের বলেন, প্রথম দফায় ৬২ জনের রোহিঙ্গা তালিকা নিয়ে কাজ করছে দুই দেশ। ৮ ডিসেম্বর ৫/৬ জনের প্রথম দলের যুক্তরাষ্ট্রের বিমান ধরার সম্ভাবনা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র রোহিঙ্গাদের নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করার বিষয়টিকে কীভাবে দেখছেন, তা জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘দেশটি দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে রোহিঙ্গা নিচ্ছে। তারা নিজ দেশের মানুষকে দেখিয়ে বলবে, দেখো, আমরা বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে আশ্রয় দিয়েছি। কিন্তু কতসংখ্যক রোহিঙ্গা নিচ্ছে, সেটি তারা বলবে না। তারা নিজ দেশের জনগণকে বলবে, দেখো, আমরা রোহিঙ্গাদের মানবিক সাহায্য করেছি।’

ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘আমি মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে জানতে চাইলাম, তোমরা কতসংখ্যক রোহিঙ্গা নেবে? জবাবে তিনি বললেন, ৬২ জনের তালিকা করা হয়েছে। প্রতিবছর ৩০০ থেকে ৮০০ রোহিঙ্গা নেওয়া হবে। তখন আমি বললাম, এই সংখ্যা কিছুই না। তখন তিনি বললেন, এটা শুরু।’

যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বর্গমাইলে ৪০ জন মানুষ বসবাস করে উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘অন্যদিকে বাংলাদেশে প্রতি বর্গমাইলে বসবাস করে ৩ হাজার ২০০ জন। আমি তাকে বললাম, তোমাদের দেশে যে জায়গা আছে, তাতে এক লাখ রোহিঙ্গা নেওয়া যায়। জবাবে তিনি বললেন, সারা বিশ্ব থেকে তারা ১ লাখ ২৫ হাজার রোহিঙ্গা নেবে। এর মধ্যে বাংলাদেশ থেকে নেবে বছরে ৩০০ থেকে ৮০০ জন।’

পররাষ্ট্র মন্ত্রী আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র প্রতি বছর কিছু কিছু রোহিঙ্গা নেবে বলে জানিয়েছে। এটা নিয়ে অভিভূত হওয়ার কিছু নেই। বরং দুশ্চিন্তার বিষয়। এদের যুক্তরাষ্ট্র নিয়ে যাচ্ছে দেখে মিয়ানমারে থাকা ছয় লাখ রোহিঙ্গাও এদেশে চলে আসতে পারে।’

তৃতীয় দেশে পুনর্বাসনের অংশ হিসেবে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের একটি অংশকে নেয়ার ঘোষণা আগেই দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র সরকার। বাংলাদেশ এতে রাজি হলেও এটাকে প্রতিশ্রুতিশীল সমাধান মনে করে না। রোহিঙ্গা সংকটের মূল সমাধান তাদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসন।

এদিকে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন এখনো শুরু না হওয়ার প্রেক্ষাপটে এই উদ্যোগ নেয়ার কথা জানিয়েছেন ঢাকা সফররত যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী জুলিয়েটা ভ্যালস নয়েস।

চার দিনের সফরে বাংলাদেশে এসেছেন যুক্তরাষ্ট্রের এই সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী। কক্সবাজার ও ভাসানচরে রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবির পরিদর্শনের পর মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন ও পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেনের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।

নয়েস বলেন, ‘দীর্ঘায়িত হওয়া রোহিঙ্গা সংকটের গুরুত্বপূর্ণ সমাধান হচ্ছে তাদেরকে নিরাপদে, স্বেচ্ছায় ও সম্মানজনকভাবে নিজ দেশে ফেরানো এবং তা হতে হবে টেকসই। এটা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও যুক্তরাষ্ট্র সবাই চায়।

‘যখন সেই সমাধান হচ্ছে না, তখন অন্য সমাধান প্রয়োজন। বিশেষ করে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের জন্য বাড়তি সমাধান দরকার। সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ মানুষদের চিহ্নিত করার জন্য ইউএনএইচসিআরের সঙ্গে কাজ করতে পেরে এবং তাদেরকে তৃতীয় দেশে স্থানান্তর চেষ্টা করতে পেরে আমরা আনন্দিত।’

যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে শরণার্থীদের পুনর্বাসন বাড়ানো বাইডেন প্রশাসনের অগ্রাধিকার। অন্য যেসব সরকার ও অংশীদার রাষ্ট্রের সঙ্গে আমরা এ বিষয়ে আলোচনা করছি, এটা তাদেরও অগ্রাধিকার।

‘দীর্ঘায়িত রোহিঙ্গা সঙ্কটের সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি উদ্বুদ্ধ করতে আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে কাজ করে যাব। কাজ করব, যাতে নিরাপদে নিজ দেশে ফেরার আগে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ মানুষদের জন্য অন্য সমাধান খুঁজে পাওয়া যায়।’

Related posts

গোপনে ইসরায়েল সফরে জেনারেল খলিফা হাফতার

razzak

এবাদত ম্যাজিকে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে প্রথম টেস্ট জয়

razzak

ওমিক্রনের চেয়ে বেশি সংক্রামক ‘এক্সই ভ্যারিয়েন্ট’

razzak

Leave a Comment

Translate »