অভিমত জীবনধারা ধর্ম ও জীবন প্রবাস কথা প্রিয় প্রবাসী

ছুটির দিনগুলো ও কিছু ভাবনা

ফরিদ আহমদ, নিউজিল্যান্ড

দিন শেষে রাত এবং রাত শেষে দিন আসে। এভাবে সপ্তাহ শেষে মাস এবং মাস শেষে বছরও ফুরায়।  খ্রিস্টীয় ২০২২ সাল যেন খুব দ্রুতই আমাদের জীবন থেকে অতিক্রান্ত হয়ে গেলো। এরই মধ্যে আমাদের প্রিয় অনেক সাথী বিদায় নিয়েছেন না ফেরার দেশে। আমরা যারা বেঁচে আছি তাদের জন্য বছর শেষে এসেছে ছুটির দিনগুলো। সারা বছর হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রমের পর এই ছুটির দিনগুলো যেন অনেকটা প্রত্যাশিত। ইসলামের দৃষ্টিতে এই ছুটির দিনগুলো আমরা কিভাবে কাটাতে পারি তা নিয়ে আজকে কিছুটা আলোচনা করার চেষ্টা করবো। দীর্ঘ ৩৪ বছর পর আমার এই বাংলা প্রবন্ধ লেখা। সম্মানিত পাঠকদের ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টি প্রত্যাশা করছি।

ছুটির কেন প্রয়োজন হয়? 

আমাদের শরীর-মন বিরতিহীন সময়-স্রোতের মতো নয়। আমরা মানুষ এবং আমরা শক্তি ও দুর্বলতা এই দুইটি বাস্তবের সমন্বয়ে জীবন কাটাই। বিধাতা আমাদের মধ্যে শক্তি ও দুর্বলতা – এই দুটি উপাদান দিয়ে রেখেছেন। আর দুর্বলতা দূর করে শক্তি ফিরে পেতে আমাদের প্রয়োজন বিশ্রাম বা ছুটি। আল্লাহর বাণী “মানুষকে দূর্বল করে সৃষ্টি করা হয়েছে (আল কোরআন ৪: ২৮)” প্রতিনিয়ত সেই অকাট্য সত্যকে স্মরণ করিয়ে দেয়। এজন্যই সৃষ্টিকর্তা প্রাকৃতিকভাবে পরিশ্রম ও বিশ্রামের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার্থে সৃষ্টি করেছেন দিন ও রাত। সর্বজ্ঞানী আল্লাহ তায়ালা বলেন, “তোমাদের ঘুমকে আমি (বিশ্রামের) শান্তির উপকরণ বানিয়েছি আর রাতকে আমি (তোমাদের জন্য) আবরণ করে দিয়েছি, আর দিনগুলোকে জীবিকা অর্জনের জন্য (আলোকোজ্জ্বল) করে রেখেছি (আল কোরআন ৭৮: ৯-১১)। আর আমাদের প্রাত্যাহিক জীবনেও বছর শেষে দীর্ঘ বিশ্রামের প্রত্যাশায় ছুটির আগমন ঘটে, যার প্রয়োজনীয়তা অত্যাবশ্যক।

ছুটির প্রয়োজন কী সব ব্যাপারে?

পরকালে বিচার দিবসের বিশ্বাসীরা সব ব্যাপারে ছুটি নেন না। দুনিয়ার অত্যাবশ্যকীয় কাজে ছুটি নিলেও ইবাদতের কাজে তাঁরা ছুটি নেন না কিংবা সময়ের অবহেলা করেন না। তাঁরা বিশ্বাস করে যে, এই পার্থিব জীবন আমাদের উপাসনা বা আনুগত্যের পরীক্ষার স্থল যা মৃত্যুর আগ পর্যন্ত স্থায়ী থাকে।  এই পরীক্ষার সময়ের আমল হলো মূলধন। তাছাড়া এই পরীক্ষার চির শত্রু শয়তানও ছুটি নেয় না। আর তাই পরকালে বিশ্বাসীরা কাজে, পড়াশুনায়, ভ্রমণে, অনুষ্ঠানে, ব্যবসায়, ঘুমে বা ছুটির দিনে সর্বত্র আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় সচেষ্ট থাকে। তাঁরা স্মরণ রাখে হজরত মুহাম্মদ (সা.) এর মহাবাণী, “সুস্থতা ও অবসর – এই দুইটি নিয়ামতের (সদ্ব্যবহারের) ব্যাপারে অধিকাংশ মানুষ ধোঁকার মধ্যে আছে (সহী বুখারী: ৬৪১২)।

ছুটির সময় আমাদের করণীয়:

জান্নাতের মালিক মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের জান্নাতে যাবার পথ প্রদর্শনকল্পে বলেন, “অতঃপর যখনই তুমি অবসর পাবে তখনই (ইবাদতে) নিজেকে পরিশ্রান্ত করো এবং তুমি মহান রবের অভিমুখী হও (আল কোরআন ৯৪: ৭-৮)”। সুতরাং ছুটির দিনগুলিতে আমরা যেখানেই থাকি না কেন, যা কিছু করি না কেন, সব যেন হয় জান্নাতে যাবার জন্য, আল্লাহর আনুগত্য ভিত্তিক, তাঁর প্রিয় রাসুল এর প্রদর্শিত পথভিত্তিক। এ সময়ে আমাদের সব কিছু হোক সৎ কাজ, সুন্দর কথা ও পারস্পরিক স্নেহ, করুনা, দয়া, ভালোবাসা সমন্বিত। আমিন।

 

ফরিদ আহমদ
লেখক, গবেষক, বক্তা, প্রবাসী বাংলাদেশী
১৫ মার্চ ২০১৯ এ নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ মসজিদ হত্যাকাণ্ডে বেঁচে যাওয়া ভুক্তভোগী

Related posts

সপ্তাহটি কেমন যাবে ১২ রাশির জাতক জাতিকার

Irani Biswash

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জাপান সফরে আট চুক্তি সই

Mims 24 : Powered by information

লিবিয়ায় মরুভূমি থেকে ২০ মৃতদেহ উদ্ধার

razzak

Leave a Comment

Translate »