ফেব্রুয়ারী ২, ২০২৩
MIMS 24
এই মাত্র এই মাত্র পাওয়া জাতীয় জীবনধারা বাংলাদেশ ব্রেকিং ব্রেকিং নিউজ সেবামূলক কাজ স্বাস্থ্য

বাংলাদেশে প্রথমবার ‘মৃত’ মানুষের শরীর থেকে নেয়া কিডনি অন্যের দেহে প্রতিস্থাপন

দেশে প্রথমবারের মতো একজন মৃত মানুষের শরীর থেকে নেওয়া দুটি কিডনি দুইজনের শরীরে সফলভাবে প্রতিস্থাপন (ক্যাডাভেরিক ট্রান্সপ্লান্ট) করা হয়েছে।

বুধবার (১৮ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টা থেকে বৃহস্পতিবার (১৯ জানুয়ারি) ভোররাত ৪টা পর্যন্ত দুটি কিডনির একটি প্রতিস্থাপন করা হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ); আর অন্যটি প্রতিস্থাপন করা হয় কিডনি ফাউন্ডেশনে।

প্রথম কিডনি প্রতিস্থাপনে অস্ত্রোপচারের নেতৃত্ব দেন বিএসএমএমইউর রেনাল ট্রান্সপ্লান্ট বিভাগের প্রধান অধ্যাপক হাবিবুর রহমান। আর কিডনি ফাউন্ডেশনে নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশের অধ্যাপক এ কে এম খুরশিদুল আলম।

২০ বছর বয়সী ব্রেন ডেথ নারী সারাহ ইসলামের শরীর থেকে নেয়া হয় এ দু’টি কিডনি।  অর্থাৎ সারাহ ইসলামের মরণোত্তর দান করা কিডনি অন্য দুই নারীর দেহে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশে প্রথম দুজনের দেহে মরণোত্তর দানের কিডনি প্রতিস্থাপন করা হলো। একই সঙ্গে সারাহ ইসলামের দান করা দুটি কর্নিয়াও দুজনের চোখে প্রতিস্থাপন করা হয়।

কোনো ব্যক্তি ‘ব্রেন ডেথ’ ঘোষিত হওয়ার পর কিডনি, হৃৎপিণ্ড, ফুসফুস, যকৃৎ বা লিভার, অগ্ন্যাশয় (প্যানক্রিয়াস) ও খাদ্যনালির মতো অঙ্গগুলো দান করলে অন্য ব্যক্তির দেহে প্রতিস্থাপন করা যায়। তাঁর হৃৎপিণ্ড থেমে গেলেও কর্নিয়া, অস্থি, অস্থিমজ্জা ও চর্ম প্রতিস্থাপন করা যায়। এগুলোকে ক্যাডাভেরিক ট্রান্সপ্লান্ট বলা হয়।

এক সময় বাংলাদেশে রক্ত দানে কত অনীহা ছিল। কিন্তু সেই রক্তদান এখন সামাজিক আন্দোলনে পরিণত হয়েছে।  একইভাবে মরণোত্তর অঙ্গদানের বিষয়টিও এখন ধীরে ধীরে স্বীকৃতি পাচ্ছে, মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠছে। আর সারাহ ইসলাম তাঁর কিডনি ও কর্নিয়া মরণোত্তর দান করে সেই পথকে যেন এগিয়ে দিয়ে গেলেন।

দেশে প্রথম এ ধরনের অস্ত্রোপচার উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (১৯ জানুয়ারি) বিকেলে বিএসএমএমইউতে শহীদ ডা. মিল্টন হলে ‘ব্রেন ডেথ’ রোগীর অঙ্গদান ও বাংলাদেশে প্রথম সফল ক্যাডাভেরিক প্রতিস্থাপন বিষয়ক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে বিএসএমএমইউর উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ এবং সারাহ ইসলামের মা শবনম সুলতানা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে সারাহ ইসলামের মা শবনম সুলতানা বলেন, ‘সারাহ সত্যি সত্যি স্বর্গীয় সন্তান ছিল। যেখানে যেত, ব্যবহার দিয়ে সবাইকে মোহিত করে রাখত। ও বলেছিল, ‘‘আমার সবকিছু গবেষণার জন্য দিয়ে দিতে পারো মা।’’ সারাহর ইচ্ছা ছিল, ওর ব্রেন নিয়ে গবেষণা হোক।’

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য শেষ করার আগে বিএসএমএমইউর উপাচার্য মো. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘প্রথম অঙ্গদাতা সারাহ ইসলামের নাম চিকিৎসাক্ষেত্রে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। তাঁর এ ত্যাগের মাধ্যমে মানুষের মাঝে সচেতনতা তৈরি হবে। অনেক মানুষ নতুন জীবন পাবে।’

ক্যাডাভেরিক সার্জারিতে দীর্ঘ প্রচেষ্টার কথা জানিয়ে মো. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, তিনি এ বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ‘ব্রেন ডেথ’ কমিটিকে সক্রিয় করে তোলা হয়। তিনি আরো বলেন ‘আমরা সবাই বিশ্বাস করি ক্যাডাভেরিক রোগী অঙ্গদানের মাধ্যমে অসংখ্য অসুস্থ রোগীকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।’

সার্জারির নেতৃত্ব দেওয়া চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. হাবিবুর রহমান বলেন, মৃত ব্যক্তির থেকে অঙ্গ নিয়ে প্রতিস্থাপন এত সহজ ছিল না। পরিবার থেকেই নানা প্রতিবন্ধকতা থাকে। ইসলামে প্রাণ বাঁচানোয় গুরুত্ব দেওয়া হলেও অনেকে ভুল বোঝেন, দান করতে চান না। এ থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। পাশাপাশি অন্যান্য ধর্মের মানুষদের এগিয়ে আসতে হবে।

কিডনি ও কর্নিয়া দানকারী সারাহ ইসলামকে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অঙ্গদানের কাজে উদ্বুদ্ধ করেন বিএসএমএমইউয়ের ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. আশরাফুজ্জামান সজীব।

বিএসএমএমইউর উপাচার্য মো. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, ক্যাডাভেরিক প্রতিস্থাপনের প্রথম অঙ্গদাতা সারাহ ইসলামের নাম বাংলাদেশের চিকিৎসাক্ষেত্রে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। তার এ মহৎ আত্মত্যাগের মহিমা চিকিৎসা বিজ্ঞানে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

Related posts

ঢাকা-টরন্টো প্রথম ফ্লাইটের টিকিট শুধু ভিআইপিদের

razzak

খাদ্যদ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধিতে বাস্তুচ্যুত হচ্ছে মানুষ: জাতিসংঘ

razzak

ইন্দোনেশিয়ায় অগ্ন্যুৎপাতে ছাইয়ের নিচে তলিয়ে গেছে ১১ গ্রাম

razzak

Leave a Comment

Translate »