ফেব্রুয়ারী ২, ২০২৩
MIMS 24
আন্তর্জাতিক এই মাত্র এই মাত্র পাওয়া জাতীয় জীবনধারা বাংলাদেশ ব্রেকিং ব্রেকিং নিউজ

বাংলাদেশের উন্নয়ন বিশ্বব্যাপী প্রশংসনীয়: বিশ্ব ব্যাংক এমডি ট্রটসেনবার্গ

অতিমারি করোনা ও বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করে বাংলাদেশ যেভাবে উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে তা প্রশংসনীয় বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্ব ব্যাংকের এম ডি (ব্যবস্থাপনা পরিচালক) অ্যাক্সেল ভ্যান ট্রটসেনবার্গ।

বাংলাদেশ সফররত বিশ্বব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রোববার (২২ জানুয়ারি) বিকেলে ঢাকার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘বাংলাদেশ-বিশ্বব্যাংকের ৫০ বছরের বন্ধুত্ব উদযাপন’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আহম মুস্তফা কামাল। অর্থমন্ত্রণালয় ও বিশ্বব্যাংক এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে অর্থ মন্ত্রণালয় ও বিশ্বব্যাংকের কর্মকর্তা,  আহসান এইচ মনসুরসহ অন্যান্য অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বিশ্ব ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অপারেশন) অ্যাক্সেল ভ্যান ট্রটসেনবার্গ বলেন, স্বাধীনতার পর বাংলাদেশকে সহায়তাকারী প্রথম উন্নয়ন সহযোগী বিশ্বব্যাংক। তারপর থেকে এই দাতা সংস্থাটি প্রায় ৩৯ বিলিয়ন ঋণ সহায়তা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। যার বেশির ভাগই অনুদান বা রেয়াতি ঋণের (কম সুদে)।

ট্রটসেনবার্গ বলেন “শুরুতে সবচেয়ে দরিদ্র দেশের একটি থেকে বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের দ্রুত অগ্রসরমান অর্থনীতির একটি। ২০০০ সাল থেকে প্রতি বছর ৬ শতাংশের বেশি জিডিপি প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশ লাখ লাখ লোককে দারিদ্র্য থেকে বের করেছে। ১৯৭২ সাল থেকে বর্তমানে মাথাপিছু জাতীয় আয় ২১ গুণ বেড়েছে, ২০১৫ সালে পৌঁছেছে নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশে। বাংলাদেশ এখন উচ্চমধ্যম আয়ের দেশ হওয়ার পথে রয়েছে।”

রোহিঙ্গা প্রসঙ্গে বিশ্বব্যাংকের এমডি বলেন, মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ খুবই উদারতার পরিচয় দিয়েছে। শরণার্থী সমস্যা শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের অনেক দেশেই রয়েছে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ইউক্রেনের ৫ মিলিয়ন অধিবাসী এখন রিফিউজি হিসেবে জীবন যাপন করছে। এছাড়া লাখ লাখ ফিলিস্তিন ও সিরিয়ার রিফিউজি আশ্রয় নিয়ে আছে তুরস্ক ও লেবাননে। বিশ্বের অনেক দেশই এ সমস্যা মোকাবিলা করছে। বাংলাদেশকেও একই সমস্যা মোকাবিলা করতে হচ্ছে। তবে রোহিঙ্গাদের সহায়তার জন্য আগে থেকেই বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের পাশে রয়েছে, আগামীতেও পাশে থাকবে।

পদ্মা সেতু প্রকল্প থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে আপনারা দুঃখিত কি না- সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রটসেনবার্গ বলেন, আমাদেরকে সুদূরপ্রসারী দৃষ্টিতে চিন্তা করতে হবে। কোনো বিষয়ে যে কোনো সময়ে ভিন্নমত হতে পারে। যেভাবে পরিবারের সদস্যদের মধ্যেও যে কেউ কোনো বিষয়ে ভিন্নমত দিতে পারে।

তিনি বলেন, “যেটা আমরা বলতে চাই, আমরা দেখি- যে কোনো সময়ে আপনার জুতায় পাথর ঢুকতে পারে, আপনি সেই পাথর বের করে নেন এবং হেঁটে চলেন। একসঙ্গে কাজ করি এবং বেশি কাজ করি। আর সেটাই প্রয়োজন। এটাই আমাদের কার্যক্রমের দর্শন এবং এক্ষেত্রে আমরা অসামান্য অগ্রগতি করেছি।”

ট্রটসেনবার্গ বলেন, “এখন আমাদের পরবর্তী টার্গেট হচ্ছে বাংলাদেশকে ২০৩১ সালের মধ্যে একটি উচ্চমধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করা এবং ২০৪১ সালের মধ্যে স্মার্ট উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তোলা পরের টার্গেট।”

অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আহম মুস্তফা কামাল বলেন, বাংলাদেশের ৫০ বছরের যাত্রায় বিশ্বব্যাংক ভালোই অবদান রেখেছে। এর ফলে জিডিপির আকার ৭৪ গুণ বেড়েছে। পরবর্তী যে টার্গেট আপার ইনকাম দেশে পৌঁছাতেও সহযোগিতা করবে বিশ্বব্যাংক।

বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট মার্টিন রেইজার বলেন, বাংলাদেশ এক সময়ে খুবই দরিদ্র দেশ ছিল। সেই অবস্থা থেকে বাংলাদেশ বেরিয়ে এসেছে। সব ক্ষেত্রে পরিবর্তন এসেছে। তা চোখে পড়ার মতো।

অনুষ্ঠানে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব শরিফা খান বলেন, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নের ফলে দারিদ্র বিমোচনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমাদের আমুল পরিবর্তন হয়েছে। আগামী ২০২২- ২০২৭ মেয়াদে বাংলাদেশের জন্য বিশ্ব ব্যাংকের অংশীদারিত্ব কৌশলে সরকারের বর্তমান চাহিদাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার অনুরোধ করেন তিনি।

Related posts

মানবকল্যাণের প্রকল্পে সরকার নিজস্ব অর্থায়ন করবে: এলজিআরডিমন্ত্রী

razzak

দ্বিতীয় ধাপে ৮৪৮ ইউপি নির্বাচন ১১ নভেম্বর

razzak

করোনায় মরে গিয়েও এমপি হলেন তিনি!

razzak

Leave a Comment

Translate »