অর্থনীতি এই মাত্র এই মাত্র পাওয়া জাতীয় জীবনধারা বাংলাদেশ ব্রেকিং ব্রেকিং নিউজ

দেশে দারিদ্র্য কমে এলেও বেড়েছে বৈষম্য: বিবিএস জরিপ

করোনাভাইরাসের মতো ভয়াবহ দুর্যোগ সামলেছে বাংলাদেশ। এ অবস্থা থেকে পুনরুদ্ধারের ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে দারিদ্র্য নিরসনে। দেশে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা কমেছে। তবে আয়বৈষম্য বেড়েছে। একইসঙ্গে গ্রামে মানুষের ব্যয় ও পরিবারভিত্তিক ঋণ গ্রহণও বেড়েছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ‘খানার আয়-ব্যয় জরিপ ২০২২’ এর প্রাথমিক ফলাফলে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

জরিপের ফলাফল থেকে দেখা যায়, ২০২২ সালে দেশে দারিদ্র্যের হার ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ, যা পল্লি এলাকায় ২০ দশমিক ৫ শতাংশ এবং শহর এলাকায় ১৪ দশমিক ৭ শতাংশ। অন্যদিকে অতিদারিদ্র্যের হার গড়ে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ উল্লেখ করা হয়েছে, যা পল্লি এলাকায় ৬ দশমিক ৫ শতাংশ এবং শহর এলাকায় ৩ দশমিক ৮ শতাংশ। অর্থাৎ, দারিদ্র্য ও অতিদারিদ্র্য দুটোই কমেছে।

অন্যদিকে বৈষম্য আগের চেয়ে বেড়েছে। বৈষম্য নির্ধারণে গিনি সহগের (বিশ্বব্যাংকের হিসাব পদ্ধতি) পরিমাণ করা হয়েছে। ‘শূন্য থেকে এক’ পর্যন্ত এই সহগ পরিমাপ করা হয়। এই সহগ যদি শূন্য হয়, সে ক্ষেত্রে ধরে নেওয়া হয় কোনো বৈষম্য নেই। সহগের মান যত একের কাছাকাছি যায়, ততই বৈষম্য বাড়ে।

২০২২ সালের জরিপে প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা যায়, আয়ের জন্য গিনি সহগের মান শূন্য দশমিক ৪৯৯, যা ২০১৬ সালে ছিল শূন্য দশমিক ৪৮২ এবং ২০১০ সালে ছিল শূন্য দশমিক ৪৫৮। অন্যদিকে ২০২২ সালে ভোগব্যয়ের জন্য গিনি সহগের মান শূন্য দশমিক ৩৩৪, যা ২০১৬ সালে ছিল শূন্য দশমিক ৩২৪ এবং ২০১০ সালে ছিল শূন্য দশমিক ৩২১। অর্থাৎ আয় ও ভোগব্যয় উভয় ক্ষেত্রে বৈষম্য ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে।

বুধবার (১২ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিসংখ্যান ভবনে জরিপের প্রাথমিক ফলাফল প্রকাশ করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান। বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব ড. শাহনাজ আরেফিন এবং সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সদস্য ড. মো. কাউছার আহমেদ।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বিশ্বব্যাংকের প্রভার্টি অ্যান্ড ইক্যুয়েটি বিভাগের প্র্যাকটিস ম্যানেজার এক্সমেনা ভি ডেল কারপিও, বিআইডিএসের মহাপরিচালক ড. বিনায়ক সেন, বিবিএসের পরিচালক জিয়াউদ্দিন আহমেদ এবং পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের যুগ্মসচিব ড. দিপংকর রায়। বিবিএসের মহাপরিচালক মতিয়ার রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রকল্প পরিচালক মহিউদ্দিন আহমেদ।

জরিপের হিসেবে সাত বছরের ব্যবধানে দেশে দরিদ্র জনগোষ্ঠী কমেছে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। সর্বশেষ জনশুমারি অনুসারে দেশে জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৯৮ লাখ ২৮ হাজার। এ হিসাবে দরিদ্রের সংখ্যা ৩ কোটি ১৭ লাখ ৫৭ হাজার। এর আগে সর্বশেষ এমন জরিপ হয়েছিল ২০১৬ সালে। এরপর এ সম্পর্কিত কোনো প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি।

জরিপ ২০২২ এর ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত সাত বছরে মানুষের আয় বেড়েছে দ্বিগুণ। সাত বছরের ব্যবধানে দেশের মানুষের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বেড়েছে। দেশে বর্তমানে একটি পরিবারের মাসিক আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২ হাজার ৪২২ টাকা। ২০১৬ সালে যা ছিল ১৫ হাজার ৯৮৮ টাকা। ২০১০ সালে একটি পরিবারের গড় আয় ছিল ১১ হাজার ৪৭৯ টাকা। জরিপে আয়ের পাশাপাশি খরচও দ্বিগুণ বেড়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ মুহূর্তে একটি পরিবারের মাসে গড় খরচ ৩১ হাজার ৫০০ টাকা। ২০১৬ সালে যা ছিল ১৫ হাজার ৭১৫ টাকা। ২০১০ সালে একটি পরিবারের গড় খরচ ছিল ১১ হাজার ২০০ টাকা।

বিবিএস দাবি করছে, এ সময়ের মধ্যে মানুষের খাবারের অভ্যাস পরিবর্তন হয়েছে। ফলে এ সময় মানুষ তার আয়ের ৪৫ দশমিক ৮ শতাংশ ব্যয় করে শুধু পরিবারের খাবারের পেছনে। বাকি ৫৪ দশমিক ২ শতাংশই ব্যয় হয় খাদ্যবহির্ভূত পণ্য কেনার জন্য।

জরিপে দেখা যায়, দেশের সাত বছরের বেশি বয়সের মানুষের মধ্যে সাক্ষরতার হার ৭৪ শতাংশ। এর মধ্যে পল্লী এলাকায় সাক্ষরতার হার ৭০ দশমিক ৩ শতাংশ এবং শহর এলাকায় সাক্ষরতার হার ৮২ শতাংশ। ২০১৬ সালে দেশের সাক্ষরতার হারছিল ৬৫ দশমিক ৬ শতাংশ।

জরিপের ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, কভিড-১৯-পরবর্তী সময়ে দেশে দারিদ্র্য হ্রাসের এ চিত্র অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। এ ধারা অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশ ২০৩১ সালের মধ্যে দারিদ্র্যমুক্ত দেশ হিসেবে বিশ্বে পরিচিতি লাভ করবে।

Related posts

পশ্চিমবঙ্গের অভিনেত্রী সন্ধ্যা রায় হাসপাতালে ভর্তি

Irani Biswash

শাহজালালে ময়লার ঝুড়িতে মিলল ৮ কেজি স্বর্ণ

razzak

ধর্ষণ ও হত্যায় অভিযুক্তকে চিহ্নিত করল কুকুর

razzak

Leave a Comment

Translate »